দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা এবং গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার হাইতির পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, একই সময়ে ২৩০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া আনুমানিক এক হাজার নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহতদের অর্ধেকেরও বেশি গ্যাংবিরোধী নিরাপত্তা অভিযানের সময় হতাহত হয়েছেন। এসব অভিযানে শত শত মানুষ বিপথগামী গুলি ও বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনের আঘাতে হতাহত হয়েছেন।
হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। তার হত্যার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও বেশি এলাকা দখল করে এবং তাদের প্রভাব বাড়ায়।
ভলকার তুর্ক বলেন, গ্যাংগুলো নিজেদের কর্মকৌশল পরিবর্তন করে ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। জাতিসংঘের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ দখল করে দেশের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা তাদের কৌশলের অংশ।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের পরিচালিত মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমেছে। তবে গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিচারবহির্ভূত হত্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গ্যাংয়ে শিশুদের নিয়োগও প্রায় তিন গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তুর্ক। তার ভাষ্য, অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে গ্যাংয়ে যোগ দেওয়া টিকে থাকার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো শিশুকে নিজের জীবন ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর হাইতিতে ২০১৬ সালের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বছর বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা কঠিন বলে মনে করছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার।
গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সাল থেকে হাইতিতে একটি বহুজাতিক পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। তবে দেশটির যেসব এলাকায় গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেসব এলাকায় প্রবেশ করতেই বাহিনীটি হিমশিম খাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/