দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে কাবার কাছে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা নেই। তাদের দাবি, গ্র্যান্ড মসজিদে পথচারীদের হয়রানি করে আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শুক্রবার রাতে গ্র্যান্ড মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরকবোঝাই পোশাক পরা এক ব্যক্তি বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেন। তবে সেটি কাজ করেনি এবং কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তি কাবার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
পরে টাইমস নাও-এর এক প্রতিবেদনে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টার খবরটি সঠিক নয়।
সৌদি জননিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পথচারীদের হয়রানি করে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরে মামলাটি সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সৌদি জননিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির কোনো সত্যতা নেই। একই সঙ্গে তথ্যের জন্য সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী গ্র্যান্ড মসজিদের ভেতরে হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং কাবার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। তবে এসব দাবি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সৌদি গেজেটও জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারীর খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পথচারীদের হয়রানি করে আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি ট্রান্সফরমার অচল হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জোট দাবি করে।
জোটের দাবি, তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে ওই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুতিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মদিনার মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সাবা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে দাবি করে জানিয়েছে, সৌদি আরব মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটি আড়াল করতেই এমন দাবি করা হয়েছে।
সৌদি আরব এর আগে জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি ছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা কিংবা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানে হামলার লক্ষ্য থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, টাইমস নাও, সৌদি গেজেট
/অ