দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করলেও রোববার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪১টিতে। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরান থেকে ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে বলে জানিয়েছে ইরান।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ’ করা। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এরপর বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশ্বের যেখানেই ইরানের কোনো বিমান অবতরণ করবে, সেখানে জ্বালানি, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সোমবার জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযোগ করেছে তেহরান।
ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৪টি ফ্লাইট ছেড়ে যায় এবং ১৭টি ফ্লাইট সেখানে অবতরণ করে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করেছিল।
নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইরানের দুই প্রধান বিমান সংস্থা ইরান এয়ার ও বেসরকারি মালিকানাধীন মাহান এয়ারের ওপর। রোববার তেহরান থেকে ছেড়ে যাওয়া ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাহান এয়ারের ছিল পাঁচটি এবং ইরান এয়ারের দুটি। নিষেধাজ্ঞার আগে উভয় সংস্থার প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট তেহরান থেকে ছাড়ত।
এই সংখ্যা মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্টের দেওয়া হিসাবের চেয়ে বেশি। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। আবার তেহরান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার ৬০টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়েছিল।
তেহরানের বিমানবন্দর পরিচালক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মিত্র চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটিতে মাহান এয়ারের ফ্লাইটও চালু রয়েছে। রাশিয়া ও পাকিস্তানেও ইরানের ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে। তবে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দেশ দুটির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তুরস্কের অনুরোধে মাহান এয়ার দেশটিতে ফ্লাইট বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে ইরান এয়ার এখনো প্রতিদিন ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। কয়েকটি ছোট ইরানি বিমান সংস্থাও তুরস্কের অন্যান্য শহরে ফ্লাইট চালাচ্ছে।
আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়ায় এখনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। এসব দেশে মূলত ছোট ইরানি বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করে। নিষেধাজ্ঞা না মানা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো জানানো হয়নি।
এদিকে ইরানি যাত্রীদের ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ডে ইরানি বিমান সংস্থার সব ফ্লাইট ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত করেছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের একটি সূত্র সোমবার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে কুয়েতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও তাদের বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সেসব দেশেও ইরানের ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি ফ্লাইট এখন আর আজারবাইজান, জর্জিয়া ও ইরাকে যেতে পারছে না। তবে ইরাক নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ইরাক সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছাড় চেয়ে আলোচনা করছে।
শনিবার ইরাক সরকার জানায়, ইরানি বিমান সংস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ইরাকি বিমানবন্দরকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে।
ইরাক সরকারের ভাষ্য, ছাড় দেওয়া হলে চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর এবং বেসামরিক মানুষের স্বার্থে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
ইরানি বিমান সংস্থাগুলো মূলত ইরাকের শিয়া তীর্থযাত্রীদের ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে নিয়ে যায়। একইভাবে ইরানে পড়াশোনা করা ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরাও এসব ফ্লাইট ব্যবহার করেন। ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতে যাওয়া ইরানিদেরও এসব বিমানসেবা দিয়ে থাকে।
/অ