দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ আফ্রিকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বন্দুক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের কাছে একটি বারে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রোববার ভোরে কেপটাউনের কাছে একটি বিনোদনকেন্দ্রের বাইরে আরেক হামলায় ১০ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
জোহানেসবার্গের কাছে বারে হামলার ঘটনায় পুলিশ জানায়, আটজন বন্দুকধারী শনিবার সন্ধ্যায় বারে ঢুকে গ্রাহকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাইরে গুলি চালানোর পর তারা বারের ভেতরেও হামলা চালায়। পরে দুটি গাড়িতে আগুন দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জোহানেসবার্গের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন।
গাউতেং প্রদেশের পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমি মথোমবেনি বলেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে ইথিওপিয়া ও লেসোথোর নাগরিকও রয়েছেন। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।
হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে অবৈধ খননকাজে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
এর আগে প্রাদেশিক পুলিশের উপকমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গত মাসে একই এলাকায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে হামলাটি হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশের কাছে স্পষ্ট ছবি এবং কয়েকজনের নামও রয়েছে।
এদিকে কেপটাউনের কাছে টাউনশিপ এলাকায় রোববার ভোরে বিনোদনকেন্দ্রের বাইরে বন্দুক হামলায় পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন।
রোববার সকাল পর্যন্ত দুটি হামলার কোনো ঘটনায়ই কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বের অন্যতম উচ্চ হত্যার হার রয়েছে। ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং মাদক ও অবৈধ খননকাজে জড়িত অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত দেশটিতে বন্দুক সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনায় দেশটিতে উদ্বেগ বেড়েছে। এর কয়েক দিন আগেই ডারবান শহরের কোয়ামাখুথা টাউনশিপে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় ১১ জন নিহত হন।
ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সংগঠিত অপরাধকে গণতন্ত্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। চলতি বছরের শুরুতে সহিংসতা কমাতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এমন এলাকাগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
এর মধ্যেই শনিবার জোহানেসবার্গের পূর্বে একুরহুলেনি এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই এলাকায় মৃত নারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুগুলোর মধ্যে কিছু মিল থাকায় সেখানে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারী সক্রিয় কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/