দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আবারও আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুই দেশের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়। একই সময়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর এই প্রথম জাতিসংঘের একই অধিবেশনে অংশ নিতে যাচ্ছেন দুই নেতা। রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি আগ্রহী। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই নেতার সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। যদিও আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরানের প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমাতে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হলে সাত দিনের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে পারে তেহরান। গত সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে জানাতে হবে যে তারা কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায়। এরপর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে আলোচনার অগ্রগতির সময়সীমা নির্ধারণে সম্মত হতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কূটনীতিতে ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এনবিসির টুডে অনুষ্ঠানে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনার সম্ভাবনা এবং চলমান সংঘাতের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
গত জুলাইয়ে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়নি। দুই প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও বলেন, ট্রাম্প বাস্তবতা ও সাধারণ বোধবুদ্ধিকে গুরুত্ব দেন। তার মতে, কারও সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ রাখার মধ্যে ক্ষতির কিছু নেই।
তবে একইসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অধীনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন রুবিও। তিনি ইরানের নেতৃত্বের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মঙ্গলবার বলেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে বুঝতে হবে যে ইরানি জনগণ ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ওপর শক্তি প্রয়োগ করে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে ট্রাম্প মঙ্গলবার বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে আগ্রহী হলেও ইরানকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
এর মধ্যে সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের কারণে আরও গভীরভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হুতিরা পিছু হটতে বাধ্য করেছে এবং লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানির ওপরও হুমকি তৈরি হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা যায়। রয়টার্সকে দেওয়া সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম আবার শুরু করেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে সীমিত পরিমাণে তেল রপ্তানি শুরু হতে পারে বলেও জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটি চলতি মাসে হামলার পর বন্ধ হয়ে যায়। রিয়াদ ওই হামলার জন্য ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিত্রদের দায়ী করেছে।
অন্যদিকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে হুতিরা কাহবুব পর্বতমালার কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে।
গত বছর দুই মাস হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন নতুন করে ওই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
এ বিষয়ে রুবিও বলেন, পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সৌদি আরবের পাশে থাকবে এবং তাদের সমর্থন করবে। কারণ, দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি রয়েছে। তবে হুতিদের সঙ্গে সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রেরও দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠকে কাতারের একটি প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে দোহা। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
রোববার নিউইয়র্কে কাতার ইকোনমিক ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানোর বিষয় থাকতে হবে। তিনি বলেন, বারবার উত্তেজনা ও পাল্টা হামলার চক্র কিংবা এমন কোনো ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যেখানে কোনো একটি দেশ সবসময় নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/