দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র মাউন্ট মানতাপের আশপাশে দেশটির পারমাণবিক পরীক্ষার পর ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের দাবি, ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষার পরও বহু বছর ধরে ওই এলাকায় ভূমিকম্পের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এসব ভূমিকম্পের সংখ্যা ও তীব্রতাও বাড়ছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
গবেষকেরা ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই এলাকার ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাউন্ট মানতাপের আশপাশে মোট ১ হাজার ৩৯৯টি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন। উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এই পাহাড়ের নিচে মোট ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।
গবেষকদের জন্য বিষয়টি অস্বাভাবিক, কারণ সাধারণত পারমাণবিক বিস্ফোরণের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূমিকম্প কোনো পরীক্ষার কয়েক বছর পরও ক্রমাগত বাড়তে থাকে না। গবেষণায় বলা হয়েছে, মাউন্ট মানতাপ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ হাজার বছর ধরে ভূমিকম্পের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত কম।
ওই এলাকায় প্রথম ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয় ২০১৩ সালে, উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার পর। তবে পরবর্তী কয়েক বছরে ভূমিকম্পের সংখ্যা ছিল খুবই কম। পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠ এবং সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ওই বিস্ফোরণের আগে ভূকম্পন ছিল খুবই বিরল। কিন্তু ষষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের পর ভূমিকম্পের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
২০১৭ সালের পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। ওই বিস্ফোরণের কারণে একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ার আকৃতিতেও প্রায় ৩ মিটার পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তবে পরীক্ষার পর রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলো খুব শক্তিশালী ছিল না। পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কিম সিএনএনকে জানান, এসব ভূমিকম্পের বেশির ভাগের মাত্রা ছিল ২ থেকে ৩-এর মধ্যে। এগুলো অপেক্ষাকৃত অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গবেষকেরা বলছেন, ২০১৭ সালের বিস্ফোরণের পর মাউন্ট মানতাপের নিচের ভূস্তর আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি। বরং বিস্ফোরণের পর আগে থেকে থাকা অন্তত দুটি ভূতাত্ত্বিক ফাটল সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে পাহাড়ের ভেতরে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুরোনো ফাটলগুলো আবার সক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট নতুন ফাটলগুলোতে পানি জমে ভূস্তরের ভেতরে চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপের ফলে পাথরের স্তরগুলো পরস্পরের ওপর সরে যেতে শুরু করেছে, যার ফলেই ধারাবাহিকভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্পের সৃষ্টি হচ্ছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।
/অ