দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পুলিশের কাছ থেকে নিজের অবস্থান গোপন রাখতে নানা কৌশল নিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের এক মাদক কারবারি। ব্যবহার করেছিলেন ভিপিএনও। কিন্তু একটি যন্ত্র অসাবধানতাবশত প্রকাশ্য ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আলমারির ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা। তিনি উত্তর কিলবার্ন এলাকায় ‘ববি’ নামে একটি মাদক সরবরাহ চক্র পরিচালনা করতেন। এই চক্রের মাধ্যমে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করা হতো।
‘দ্য মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক সরবরাহে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন শিশুর কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোন পরীক্ষা করার পর পুলিশ লুইসের পরিচালিত মাদক চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের নজর এড়াতে লুইস নিজের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তার ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোতে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তিনি যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেখানে তার একটি যন্ত্র প্রকাশ্য ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর সূত্র ধরেই পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে।
এরপর ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই বাড়িতে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে লুইস একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে পুলিশ দ্রুত তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’
তদন্তে লুইসের মুঠোফোন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি প্রতিদিন ১০০টির বেশি ফোনকল পেতেন। তার যোগাযোগের তালিকায় প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর নম্বর ছিল।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে কোকেন ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড। এ ছাড়া প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে একটি ফোন ‘ববি’ মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বাড়িটি থেকে একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩টি গুলি, একটি দা এবং একটি ভাঁজ করা ছুরিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, লুইস উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনের কাজে তরুণদের নিয়োগ করেছিলেন। এতে তারা সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছিল।
তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া গোয়েন্দা কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, ‘কাউন্টি লাইনস’ ধরনের মাদক সরবরাহ চক্র তরুণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
‘দ্য মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে লুইসকে হ্যারো ক্রাউন কোর্টে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
/অ