দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের গুরগাঁওয়ে নারী বাইকারকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালক কল্যাণ বনসলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাজস্থানের দৌসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার চাচাতো ভাই লাভনিশ বনসলাকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গুরগাঁও পুলিশের পূর্বাঞ্চলের উপকমিশনার সন্দীপ কুমার বলেন, ‘আমরা জানতে পারি, অভিযুক্ত পালওয়ালের বাসিন্দা। তিনটি পুলিশ দল গঠন করা হয়েছিল এবং মঙ্গলবার রাজস্থানের দৌসার কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা আরও একজনের ভূমিকা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তিনি জানান, কল্যাণ যে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, সেটি তার এক বন্ধুর।
রোববার গুরগাঁওয়ের গলফ কোর্স রোডে সাদা রঙের একটি গাড়ি হঠাৎ বাঁ দিকে মোড় নিয়ে হেলমেট পরা নারী বাইকার সিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে সিয়া সড়কে ছিটকে পড়ে যান। তার এপ্রিলিয়া আরএস ৪৫৭ ক্রীড়াবাইকটিও সড়কের ওপর পিছলে যায়। এ সময় বাইক থেকে সামান্য আগুনের ফুলকি বের হতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করার আগে সিয়া এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এই ঘটনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চান।
সিয়া বলেন, ‘সে মনে করেছে, একজন নারীকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে গেলেই তার কিছু হবে না। এটি স্পষ্টভাবে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনা।’
সিয়ার বাবা রোশন চৌহানও বলেন, অভিযুক্তের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘থামবেন না’।
এদিকে অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে গণমাধ্যমের ক্যামেরায় কথা বলা অভিযুক্ত দাবি করেন, বাইকচালক পুরুষ না নারী, তা তিনি জানতেন না। তার অভিযোগ, ঘটনার শুধু এক পক্ষের বিষয়ই সামনে এসেছে। সিয়ার এক পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে ভিডিও প্রকাশিত হয়নি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই মেয়েটির জন্য আমার খুব খারাপ লেগেছে।’
তবে তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন সিয়া। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণে তার কথিত উদ্বেগের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সিয়া বলেন, ‘সত্যিই যদি আমার জন্য খারাপ লেগে থাকে, তাহলে থামলেন না কেন? এটা আপনার দায়িত্ব ছিল। আপনি যদি আমাকে ধাক্কা দেন, তাহলে আপনার থেমে দেখে যাওয়া উচিত ছিল আমি আহত হয়েছি কি না।’
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তার ভাষায়, ‘আমি আরও গুরুতরভাবে আহত হতে পারতাম। আমার হাড় ভেঙে যেতে পারত। ঘটনাস্থলেই আমার মৃত্যু হতে পারত।’
সিয়া আরও বলেন, ‘তার এই সহানুভূতির দাবি মানায় না। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তারা কীভাবে পালিয়ে গেছে। যাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়েছে, সে বেঁচে আছে কি না, মারা গেছে কি না, তা দেখার জন্যও তারা এক মুহূর্ত থামেনি।’
/অ