দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান।
জাবাল সাঈদ নামক স্থানে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান কাজের মাধ্যমে ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং আশাব্যঞ্জক ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে বলে আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কারের কয়েক মাস আগেই গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির ফলে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক প্রকল্পে নতুন গতি আসে।
বিশেষ করে নভেম্বর ২০২৫-এ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর খনিজ খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এই সফরে সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’ এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এমপি মেটেরিয়ালস’-এর মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি হয়, যার অধীনে তৈরি হতে যাওয়া নতুন প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান।
জেদ্দা শহর থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদ খনিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রটিতে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা খনিজ উপাদানের পাশাপাশি প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বমানের এই খনিজ সম্পদের মোট মূল্য আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেশি। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইতোমধ্যেই ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ
কেএম