দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন অস্থায়ী শিবিরে। এতে দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দেশটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকা থেকে পালিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে পৌঁছানো মানুষদের একজন আয়েশা মুহাম্মদ। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথটি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের চলাচলের পথে পরিণত হয়েছে। পালিয়ে আসার সময় তিনি দুই মেয়ে ও তিন ছেলেকে বাড়িতেই রেখে এসেছেন।
পুরোনো কালো চায়ের কেতলি পাথরের ওপর আগুনে বসিয়ে পানি গরম করতে করতে আয়েশা বলেন, তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং গুলি করা হচ্ছে। এখন তারা আমাদের কাছে আসতে পারছে না, আমরাও তাদের কাছে ফিরতে পারছি না। এটি সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকে সংঘাতে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষ এডেন উপসাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার শিং অঞ্চলভুক্ত দেশ জিবুতিতে পৌঁছেছেন।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও জনবহুল বেশির ভাগ এলাকা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছে হুথিরা। নতুন করে তাদের অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে তেহরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
ইয়েমেনে সংকট অবশ্য নতুন নয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের বাহিনী ও হুথিদের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট তৈরি করেছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটি সংঘাতে জর্জরিত। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের লড়াই অনেকটাই থামিয়ে দিয়েছিল। ছয় মাস পর ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও থমকে গেছে।
স্যান্ডেল পরা পাহাড়ি যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হুথিরা সময়ের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসমৃদ্ধ কয়েক হাজার সদস্যের একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে তাদের দ্রুত অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের সংঘাতে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে।
হুথিদের অগ্রযাত্রা কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে এমন একটি পরিবার রয়েছে, যারা সবকিছু হারিয়েছে। অনেক মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কোনো বিকল্প না থাকায় অনেকে কিছুই সঙ্গে না নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছেন। দারিদ্র্য ও সংঘাতে ক্ষতবিক্ষত ইয়েমেন একা এই সংকট সামাল দিতে পারবে না।
আইওএম প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, নৌকায় করে জিবুতির উত্তর উপকূলে পৌঁছানো ইয়েমেনিদের একটি কাছের শরণার্থী বসতিতে খাবার ও পানি দেওয়া হচ্ছে।
জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস দাওয়ালেহ রোববার বলেন, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে অব্যাহত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি তার দেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তাইজে ফিরে আবারও স্থিতিশীল জীবনের প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত মানুষরা। লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটা প্রবীণ আবদুল্লাহ কাইয়েদ বলেন, এখন আমাদের দিকে তাকান। আমরা গভীরভাবে বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। আমরা শুধু ন্যূনতম জীবিকা ও নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশা করি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/