দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নয়ন ধীর করার আহ্বানকে চীনকে লক্ষ্য করে নেওয়া শীতল যুদ্ধের কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। শনিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি অত্যাধুনিক এআই মডেলের সক্ষমতা বিকাশের গতি নিয়ন্ত্রণের একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন। তাঁর এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক।
তবে আমোদেই একই সঙ্গে চীনের ওপর চিপ রপ্তানিতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার এবং চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মডেল ডিস্টিলেশন বা উন্নত এআই মডেলের সক্ষমতা নকল করে ব্যবহারের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। রোববার সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন দ্বিধা তৈরি হবে যদি চীন ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ একইভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমাতে রাজি না হয়।
গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, আমোদেইর নিবন্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত বাধা ও নিয়ন্ত্রক একচেটিয়াত্বের মাধ্যমে চীনের এআই উন্নয়ন ঠেকানো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ওয়াশিংটনের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা থেকে চীনকে দূরে রাখা।
পত্রিকাটি এই নীতিকে ভণ্ডামিপূর্ণ ও স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন নীরব এআই শীতল যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে। তাদের দাবি, বৈশ্বিক এআই উদ্ভাবন থেকে চীনকে বাদ দিলে প্রযুক্তির বিকাশে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে দ্রুত অগ্রসরমান এআই মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষকের এমন সতর্কবার্তার পর যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এআই ব্যবস্থার জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে রোববার এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কিছু অত্যন্ত নেতিবাচক শক্তি এ নিয়ে অতিরঞ্জিত উদ্বেগ তৈরি করছে।
ট্রাম্প বলেন, এআইয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অবস্থান ধরে রাখতে হবে। তাঁর মতে, এআইয়ে যে দেশ জয়ী হবে, শেষ পর্যন্ত সেই দেশই এগিয়ে থাকবে।
মার্কিন প্রযুক্তি খাতের নেতাদের এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে এআই নিয়ে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়।
সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, বিভিন্ন ধরনের হুমকি উসকে দেওয়া, সংঘাত ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিযোগিতায় জড়ানো বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থার প্রক্রিয়াকে শুধু ব্যাহত করবে এবং তা কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়।
এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অত্যাধুনিক এআইয়ের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকেও বিষয়টি উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/