দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশেই রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এজন্য বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে কোথাও যেন পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটরের পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পাত্র বা আবর্জনা দ্রুত অপসারণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯ জন। এর আগে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু হাসপাতালে নয়, শুরু করতে হবে মানুষের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগী দ্রুত শনাক্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা, দরিদ্র রোগীদের সহায়তা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, বৃষ্টিকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং বৃষ্টির পরপরই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে প্রতিবছরের ডেঙ্গু সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া, শরীর মুছে দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি ছাড়াও ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খেতে হবে।
ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা। এজন্য বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধতা ও মশার প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রম চালাতে হবে।
এমএস/