দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস দেখা এখন তরুণদের কাছে অন্যতম বিনোদন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছোট ভিডিও দেখে সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই। তবে এই অভ্যাস কি মস্তিষ্কের জন্য বিপজ্জনক? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা।
চীনের তিয়ানজিন নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিয়াং ওয়াংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস দেখার আসক্তি অ্যালকোহল বা জুয়া খেলার মতোই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা বেশি রিলস দেখেন তাদের মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ) অতিরিক্ত চাপে পড়ে। বয়স ২৬-২৭ হওয়ার আগেই যদি এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তবে মনোযোগের ঘাটতি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
রিলস দেখার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা আনন্দ দেয়। কিন্তু এই মাত্রা অতিরিক্ত হলে তা আসক্তি তৈরি করে এবং মনোযোগ কমিয়ে দেয়। রাতে ছোট ভিডিও দেখলে ঘুমের মানও নষ্ট হয়, কারণ এটি মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসকে (স্মৃতি ও স্থানিক নেভিগেশনের জন্য দায়ী অংশ) প্রভাবিত করে।
অধ্যাপক ওয়াংয়ের মতে, যত বেশি রিলস দেখা হয়, মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড পাথওয়ে তত সক্রিয় হয়। তবে দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। তিনি জানান, চীনে ৯৫.৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতিদিন গড়ে ১৫১ মিনিট রিলস দেখেন, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
এই ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়:
১. সময় ব্যবস্থাপনা– প্রতিদিন রিলস দেখার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন এবং সময় শেষ হলে স্ক্রিন থেকে দূরে সরে যান। ২. নোটিফিকেশন বন্ধ করুন– পড়াশোনা বা কাজের সময় সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। ৩. অ্যাপ ব্যবহার করুন– ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাইম-ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ৪. অন্য কাজে ব্যস্ত থাকুন– নতুন কিছু শেখা, ব্যায়াম বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। ৫. পজিটিভ কন্টেন্ট দেখুন– বিনোদনের বদলে শিক্ষামূলক বা প্রেরণাদায়ক কন্টেন্ট বেছে নিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিলস অবশ্যই বিনোদনের মাধ্যম, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সময় ব্যবস্থাপনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এমএস/কে