দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের অভিনয়জীবনে ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ সিনেমাটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। কারণ, এই সিনেমার মধ্য দিয়েই কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। এবার সেই সিনেমাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেল বড় স্বীকৃতি।
অনীক দত্ত পরিচালিত ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ (দ্য কলকাতা কেস) কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত ক্যাম্বোডিয়া এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জিতেছে সেরা এশীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। একই উৎসবে ছবিটির পরিচালক প্রয়াত অনীক দত্ত পেয়েছেন সেরা পরিচালক সম্মাননা।
আর এই সিনেমার গল্পের একেবারে কেন্দ্রে রয়েছেন ‘সাবা’ চরিত্রটি। এতে অভিনয় করেছেন নওশাবা।
সাবা ঢাকার একজন তরুণী। মায়ের বাবা-মায়ের পুরোনো একটি ছবি তাকে টেনে নিয়ে যায় কলকাতায়। পরিবারের অতীত, নিজের পরিচয় ও শিকড়ের সন্ধানেই শুরু হয় তার এই যাত্রা। কলকাতায় গিয়ে একের পর এক সূত্রের মুখোমুখি হয় সাবা। সেই সূত্র ধরে এগোতে গিয়ে রহস্যের পাশাপাশি সামনে আসে একটি পরিবারের গল্প, স্মৃতি এবং হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের কথা।
সাবার এই অনুসন্ধানের সঙ্গী হয় তোপশে চরিত্রটি। এতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়।
তাই ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’কে শুধু রহস্য বা গোয়েন্দা গল্প বললে পুরো ছবিটির ব্যাপ্তি ধরা পড়ে না। এর ভেতরে রয়েছে নিজের পরিচয় ও শিকড় খুঁজে পাওয়ার গল্প। আর সেই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সাবা।
অনীক দত্তের আস্থায় নওশাবা
‘সাবা’ চরিত্রে নওশাবাকে নেওয়ার গল্পটিও বেশ আলাদা। পরিচালক অনীক দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাবার বাবাকে নিয়ে লেখা কিছু ব্যক্তিগত চিঠি পড়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর নওশাবার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরে অডিশন ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত সাবা চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হন নওশাবা।
পরে নওশাবা জানিয়েছিলেন, অনীক দত্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটি কেবল পরিচালক ও অভিনেত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সময়ের সঙ্গে তা অনেকটা বাবা-মেয়ের সম্পর্কের মতো হয়ে উঠেছিল।
তাই নওশাবার কাছে ‘সাবা’ শুধু কলকাতার সিনেমায় প্রথম কাজের সুযোগ নয়, বরং এমন একজন পরিচালকের আস্থার প্রতীক, যিনি তাঁর মধ্যে এই চরিত্রটিকে দেখতে পেয়েছিলেন।
দুই বাংলার শিল্পীদের এক গল্প
ছবিতে নওশাবার সঙ্গে অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়। দুই বাংলার দুই অভিনয়শিল্পীকে একসঙ্গে দেখা গেছে এমন একটি গল্পে, যেখানে কলকাতা শুধু ছবির পটভূমি নয়, গল্পেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য লিখেছেন অনীক দত্ত ও উৎসব মুখোপাধ্যায়। প্রযোজনায় রয়েছে ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। সংগীত পরিচালনা করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র, চিত্রগ্রহণে ইন্দ্রনাথ মারিক এবং সম্পাদনায় অর্ঘ্যকমল মিত্র।
সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা-জগতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হলেও ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ কোনো ফেলুদা গল্পের সরাসরি অভিযোজন নয়। ফেলুদার আবহ, রহস্য ও অনুসন্ধানের স্বাদকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবিটির নিজস্ব গল্প।
নওশাবার জন্য অর্জনটি বিশেষ কেন?
বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী হিসেবে কলকাতার সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিষেক, সেই সিনেমার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সেরা এশীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার জয়—সব মিলিয়ে নওশাবার অভিনয়জীবনে এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এর সঙ্গে আবেগের জায়গাটিও গভীর। পরিচালক অনীক দত্ত এখন আর নেই। তাঁর পরিচালিত এই সিনেমা যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা পরিচালক ও সেরা এশীয় চলচ্চিত্রের সম্মান পেল, তখন নওশাবার জন্য অর্জনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যাওয়ার কথা।
কারণ, এই সিনেমায় নওশাবা শুধু একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অনীক দত্তের দেখা ‘সাবা’।
একজন তরুণী নিজের শিকড়ের সন্ধানে ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছিল। আর সেই সাবা হয়ে নওশাবার নিজের অভিনয়যাত্রাও যেন কলকাতায় থেমে থাকল না। ঢাকা থেকে কলকাতা, এবার কম্বোডিয়া—সাবার শিকড় খোঁজার গল্পের সঙ্গে নওশাবার অভিনয়যাত্রাও পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
এমএস/