দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী মিউজিক ভিডিও ‘মিতু জিতুর গল্প’। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেলাল খানের কণ্ঠে গাওয়া গানটির কথা লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক ড. কাজী সালেহীন। গানটির সুর, সংগীত পরিচালনা, মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট, মিক্সিং-মাস্টারিং ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এস কে সমীর। গানটি প্রকাশিত হয়েছে ডক্টর কাজী প্লানেটের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থেকে।
‘মিতু জিতুর গল্প’ শুধুই একটি রোমান্টিক গান নয়। ভালোবাসার গল্পের মাধ্যমে এতে ক্যান্সার প্রতিরোধ, সময়মতো স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
গানটির ভিডিও পরিচালনা ও চিত্রগ্রহণ করেছেন মাহদী আল মুজাহিদ। এতে অভিনয় করেছেন শেখ রাতুল রহমান ও অহি ইসলাম অথৈ। বিশেষ উপস্থিতিতে রয়েছেন রুনা হক। গানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো আরও আবেগঘন করে তুলতে বিশেষ অংশে কণ্ঠ দিয়েছেন হাসান মাহাদী।
গানটির গল্পে দেখানো হয়েছে, ভালোবাসায় পূর্ণ দুটি মানুষের জীবন কীভাবে হঠাৎ কোলন ক্যান্সারের কারণে বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে সময়মতো ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব। নির্মাতাদের মতে, যথাসময়ে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধ কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব।
গানটিতে বলা হয়েছে, আপনজন ও ভালোবাসার মানুষকে ধরে রাখতে ক্যান্সার স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সচেতনতামূলকভাবে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের স্ক্রিনিংয়ের বয়সসীমা তুলে ধরা হয়েছে।
কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান বলেন, গান মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ‘মিতু জিতুর গল্প’ এমনই একটি ব্যতিক্রমী কাজ, যেখানে গান ও সচেতনতার সুন্দর সমন্বয় হয়েছে। গানটি শ্রোতাদের ভালো লাগার পাশাপাশি ক্যান্সার স্ক্রিনিং সম্পর্কে সচেতন হতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করেন তিনি।
গীতিকার ও প্রযোজক ড. কাজী সালেহীন বলেন, চিকিৎসক হিসেবে প্রতিদিন ক্যান্সারের কারণে অসংখ্য পরিবারের কষ্টের গল্প দেখেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ‘মিতু জিতুর গল্প’ লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। মানুষকে ভয় দেখানো নয়, বরং সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জানানোই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
ভিডিও পরিচালক মাহদী আল মুজাহিদ বলেন, ভিডিও নির্মাণের সময় দর্শকের হৃদয়ে গল্পটির আবেগ ও সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। দর্শক মিউজিক ভিডিওটি দেখার পাশাপাশি নিজেদের ও প্রিয়জনদের সুস্থতার বিষয়েও নতুন করে ভাববেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সুরকার ও সংগীত পরিচালক এস কে সমীর জানান, গানটি তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত আবেগের। তাঁর মা দীর্ঘ আড়াই বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান। পরে তাঁর সেজো মামা শেখ করিমুল আলম এবং মামাতো বোন শেখ শিরিন শাহদ্ সেঁউতিও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই গানটিকে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি প্রকল্প হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
এস কে সমীর বলেন, ড. কাজী সালেহীনের চিন্তা ও গবেষণালব্ধ তথ্য, বেলাল খানের আবেগময় কণ্ঠ, মাহদী আল মুজাহিদের সংবেদনশীল নির্মাণ এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কাজটি পূর্ণতা পেয়েছে। সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী হাতিয়ার—এমন বিশ্বাস থেকেই ভবিষ্যতেও মানবিক ও সচেতনতামূলক কাজ করার প্রত্যয় জানান তিনি।
এমএস/