দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলমলে আলো, কোটি ভক্তের ভালোবাসা আর আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি। এসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একেকটি সংগ্রামের গল্প। আজকে যারা শোবিজের শীর্ষ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকা, তাদের ক্যারিয়ারের শুরুটা কিন্তু মোটেও এমন রাজকীয় ছিল না। প্রথম কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কেউ পেয়েছিলেন নামমাত্র টাকা, আবার কেউ পেয়েছিলেন চমকে দেওয়ার মতো অঙ্ক! চলুন জেনে নেওয়া যাক ঢালিউডের মিষ্টি মেয়ে কবরী থেকে শুরু করে আজকের কেয়া পায়েলের প্রথম পারিশ্রমিকের সেই গল্প।
ঢালিউডের ‘মিষ্টি মেয়ে‘ সারাহ বেগম কবরী। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত কালজয়ী সিনেমা ‘সুতরাং‘-এর শুটিংয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি।

এই ঐতিহাসিক সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তার প্রথম পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ১১১১ টাকা!
একই যুগের আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রোজিনা। ‘জানোয়ার‘ সিনেমায় মাত্র একটি ছোট্ট দৃশ্যে ট্রে হাতে হেঁটে যাওয়ার অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ১০ টাকা!

বাংলা চলচ্চিত্রের সুবর্ণ যুগের রানি বলা হয় তাকে। তিনি মেগাস্টার শাবানা। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে ষাটের দশকে প্রতি চলচ্চিত্রে তার পারিশ্রমিক ছিল তুলনামূলক বেশ কম।

তবে সত্তরের দশকের শুরুতে জনপ্রিয়তা বাড়ার পর তিনি প্রতি সিনেমাতে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নিতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়েছিল।
নব্বই দশকের শুরুতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত‘ দিয়ে বাজিমাত করেন প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী।

তার সমসাময়িক এবং ঢালিউডের তুমুল জনপ্রিয় আরেক সম্রাজ্ঞী শাবনূর। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রথম সারির এই দুই নায়িকার পারিশ্রমিক কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও, পরবর্তীতে তাদের তুমুল জনপ্রিয়তার যুগে তারা সিনেমা প্রতি ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি শাসন করেছিলেন।

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ঢালিউডে আগমন ঘটে দিলারা হানিফ পূর্ণিমার। ১৯৯৭ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার‘ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন তিনি।

তবে সেই সময়ে দাঁড়িয়ে প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেন পূর্ণিমা। পারিশ্রমিক হিসেবে পান পুরো ১ লাখ টাকা!
ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে ওটিটি আর বড় পর্দায় রাজত্ব করা মেহজাবীন চৌধুরীর শুরুটাও ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। ২০০৯ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হওয়ার পর ইফতেখার আহমেদ ফাহমির ‘তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে‘ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন তিনি।

ভীষণ নার্ভাস থাকা মেহজাবীন সেই প্রথম নাটকের শুটিং শেষে পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ১৫ হাজার টাকা!
হালের ব্যস্ততম এবং সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া নাট্য অভিনেত্রীদের একজন কেয়া পায়েল। ২০১৮ সালে আফরান নিশোর বিপরীতে ‘একটাই আমার তুমি‘ নাটকের মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন এই গ্ল্যামার গার্ল।

আর সেই কাজের জন্য পায়েল প্রথম পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার টাকা!
১০ টাকা থেকে শুরু করা রোজিনা কিংবা ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা কেয়া পায়েল টাকার অঙ্কটা সময়ের ব্যবধানে ছোট মনে হলেও, তাদের নিষ্ঠা আর কাজের প্রতি ভালোবাসাই তাদের আজকের মহাতারকা বানিয়েছে। প্রিয় তারকাদের এই শুরুর গল্প মনে করিয়ে দেয় পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে যেকোনো সাধারণ শুরুই অসাধারণ এক সমাপ্তি এনে দিতে পারে।
/অ