দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর একুশে পদক ২০২৬ পাচ্ছেন দেশের বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারিভাবে ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণা করা হয়। এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
তালিকায় নিজের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ববিতা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দেরিতে হলেও একুশে পদক পেয়েছি এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ।
পদকপ্রাপ্তির ঘোষণার পর থেকেই সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছেন এই গুণী অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই সম্মাননা তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদ জহির রায়হানকে।
ববিতা বলেন, শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা। তাই এই একুশে পদকটি আমি তাকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।
উল্লেখ, নন্দিত নির্মাতা জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমার মাধ্যমে ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ববিতার। তখন তার নাম ছিল ফরিদা আক্তার পপি। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের টেলিভিশন নাটক ‘কলম’-এ অভিনয় করেন তিনি। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ সিনেমায় অভিনয়ের সময়ই তার নামকরণ হয় ‘ববিতা’।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ববিতার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এরপর ‘নয়নমণি’, ‘বসুন্ধরা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য একই সম্মাননায় ভূষিত হন।
এছাড়া ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘কে আপন কে পর’ এবং প্রযোজক হিসেবে ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সিনেমার জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে ববিতা আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। পাশাপাশি অস্কারজয়ী বিশ্বনন্দিত নির্মাতা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনিসংকেত’ চলচ্চিত্রে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।
জে আই