দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি মানবিক ও হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের অন্যতম সদস্য হামিন আহমেদ। ১৯৯৩–৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের সরকারি বাসভবনে সংগীত পরিবেশনের আমন্ত্রণ পেয়েছিল ব্যান্ড মাইলস।
হামিন আহমেদ লেখেন, সেদিনই প্রথমবারের মতো তিনি সামনাসামনি বেগম খালেদা জিয়াকে দেখেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, মার্জিত আচরণ ও রুচি তাকে মুগ্ধ করেছিল। অনুষ্ঠানের আগে দুপুরে সাউন্ডচেক চলাকালে খাবারের সময় হলে জিয়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য ব্যান্ডের শিল্পীদের বাইরে কোথাও খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন। তখন বেগম খালেদা জিয়া সবাইকে থামিয়ে বলেন, ‘ওরা এই বাড়িতেই খাবে। আমরা যা খাই, তা-ই খাবে।’
এই নির্দেশের পর মাইলসের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান। হামিন আহমেদের ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিকতা তাদের বিস্মিত করে। তিনি নিজ হাতে শিল্পীদের প্লেটে খাবার তুলে দেন। সেই সম্মান ও উষ্ণ আচরণ আজও তাদের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়া মনোযোগ দিয়ে মাইলসের গান শোনেন এবং পরিবেশনার পর ব্যান্ডটির প্রশংসাও করেন। সংগীতশিল্পীদের প্রতি তাঁর সম্মান ও ভালোবাসা সেই দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে বলে উল্লেখ করেন হামিন।
একই লেখায় হামিন আহমেদ খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর মা, দেশবরেণ্য নজরুলসংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন খালেদা জিয়া। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ঢাকার ইন্দিরা রোডের কালিন্দী অ্যাপার্টমেন্টে ফিরোজা বেগমের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
হামিন আহমেদের ভাষায়, সেদিন খালেদা জিয়া তাদের এমনভাবে আগলে রেখেছিলেন, যেন তারা তাঁর নিজের পরিবারের মানুষ। এই মানবিক আচরণ আজীবন মনে রাখার মতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামিন আহমেদ বলেন, রাজনীতির বাইরে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গভীরভাবে মানবিক, সংবেদনশীল ও মার্জিত একজন মানুষ। মানুষের প্রতি এই ভালোবাসা ও সম্মানই তাকে অনেকের কাছে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
এমএস/