দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই আমলনামাই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সেই তালিকায় বাদ যাননি বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। এদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তাদের ব্যানার কাজে লাগিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েন নিপুণ। সেই সঙ্গে অবৈধভাবে বিএফডিসিকে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টাও চালান তিনি। এসব খবর এখন বেশ পুরনো। নতুন খবর হল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বায়োপিকে গোপনে শুটিং করেছেন নিপুণ।

এগারো বছর আগে অনেকটা গোপনেই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বায়োপিক সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন কিংবদন্তি গীতিকার-প্রযোজক ও পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
‘আপসহীন’ শিরোনামে এ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্যক্তিজীবনে আওয়ামী লীগের সমর্থক চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। সিনেমায় যুক্ত হওয়ার নেপথ্যের ঘটনা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘একদিন গাজী মাজহারুল আনোয়ার আঙ্কেল আমার বাসায় আসেন। ছবিটির কথা জানালেন। তখন শাহ আলম কিরণ ভাইয়ের “৭১-এর মা জননী” ছবির শুটিং চলছে। আমাকে আঙ্কেল বললেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার জীবনী নিয়ে “আপসহীন” বানাবেন। আমাকে তার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। জানতে চাইলেন, আমার আপত্তি আছে কি না।’
‘আমি জানালাম, অভিনেত্রী হিসেবে ম্যাডামের চরিত্রে অবশ্যই অভিনয় করা উচিত। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে রাজপথে সরব। আমি রাজি হওয়ায় আঙ্কেল খুব খুশি হলেন। জানালেন, আমার আগে জয়া আহসান ও নুসরাত ইমরোজ তিশার কথা উঠেছিল। তবে গাজী আঙ্কেলই হেলাল ভাইকে বলেছিলেন, নিপুণ হলে ম্যাডামের চেহারার সঙ্গে দারুণ মিলবে।’’
সিনেমায় জিয়াউর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন হেলাল খান। সিনেমাটির প্রযোজকও তিনি। ২০১৩ সালের শেষের দিকের কাজ শেষ হয় সিনেমার। পরিকল্পনা ছিল ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মুক্তি দেওয়ার। সে অনুযায়ী পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করে সেন্সরে দিতে প্রস্তুতি নিলেও আর হয়ে ওঠেনি। কেননা তার আগেই গ্রেফতার হন হেলাল খান। ফলে সিনেমা মুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি নির্মাতা।
তবে এবার সিনেমাটি আর ফেলে রাখতে চান না হেলাল খান। শিগগিরই মুক্তি দিতে ইচ্ছুক তিনি। এ বিষয়ে তিনি জানান ‘ম্যাডাম অসুস্থ। এই মুহূর্তে এটা নিয়ে কথা বলাটা ঠিক হবে না। তিনি সুস্থ হলেই সিনেমাটি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই হবে।
অভিনেতা আরও বলেন, ‘মাঝখানে ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক কিছু ঘটে গেছে। তাই সিনেমায় বেশ কিছু পরিবর্তন-পরিমার্জন করতে হবে। কিছু দৃশ্য হয়তো নতুন করে শুটিং করব। কিছু দৃশ্য সম্পাদনা করে বাদ দেওয়া হবে। এ জন্যও কিছু দিন সময় লাগবে। আশা করছি, এই বছরই দর্শকদের সিনেমাটি দেখাতে পারব।’
এদিকে নিজের নির্মিত শেষ সিনেমা মুক্তির আগেই না ফেরার দেশে চলে যান গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তবে সিনেমাটি নিয়ে তিনি ভীষণ আশাবাদী ছিলেন বলে জানান মাজহারুলপুত্র সরফরাজ আনোয়ার উপল। দিন রাত এক করে কাজ করেছেন। মনোযোগ সহকারে চিত্রনাট্য সাজিয়েছিলেন। সিনেমাটি নিয়ে গাজী মাজহারুল আনোয়ার বেশ কয়েকবার বেগম জিয়ার সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন বলে জানান উপল।
এস