দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর ‘রহস্যজনক মৃত্যু’ নাড়া দিয়েছে শোবিজ জগতে। হিমুর এমন হঠাৎ প্রস্থান কেউ যেন মানতেই পারছেন না। শুক্রবার বাদ জুমা জানাজা শেষে এখন দাফনের জন্য লক্ষ্মীপুরে নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হিমুকে।
হিমুর সঙ্গে ছোটপর্দায় সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তাই প্রয়াত সহশিল্পীকে নিয়ে শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে ফেসবুকে একটি আবেগী পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
পাঠকদের জন্য অভিনেতার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘মৃত্যুটা কত সহজ। এক মিনিটে নাই ভরসা, এই কথাটা আবারও প্রমাণ করল অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু। আমার অ্যালবামের ছবিগুলো সত্যিকারে ছবি হয়ে গেল। আমার মনে হয় আমার অভিনীত সবচাইতে বেশি নাটকের নায়িকা ছিলেন হুমায়রা হিমু।
শুটিংয়ে দেখা হলেই বলতো ভাইয়া আমার মনে হয় বিয়ে হবে না কোনোদিন। বলতাম কেনরে? সবাই খালি তোমার সঙ্গে যখন অভিনয়ে নেয়, আমাকে ঝগড়াটে চরিত্র দেয়। এসব টেলিভিশনে দেখে সবাই ভাবে বাস্তবেও আমি বোধহয় একটা ঝগড়াটে মেয়ে। আর এমন একটা ঝগড়াটে মেয়েকে কে বিয়ে করবে বলো?
আমি হাসতাম আর বলতাম আরে পাগল তোর বিয়ে হবে, সুন্দর একটা ছেলে দেখে তোকে বিয়ে দিয়ে দেব আমরা। আমি, চিত্রলেখা দিদি, ডলি ভাবি, নাদিয়া, বন্ধু রুমি, দিলু ভাই, আশিক এবং পরিচালক সোহাগ কাজী অনেক মজা করতাম ওর বিয়ের বিষয় নিয়ে বউ বিরোধ নাটকের শুটিংয়ের সময়। অনেক হাসাহাসি করতাম আমরা।
আজ এইসব কথা ভাবলেই অনেক খারাপ লাগে যে, মেয়েটাকে আমরা বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম আজ সেই মেয়েটাই কিনা এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছে। এটা কি মেনে নেওয়া যায়? আর কখনও হুমায়রা হিমু বলবে না তার বিয়ের কথা।
বাবাকে হারিয়েছিল অনেক আগে। মা ছিল তার একমাত্র বন্ধু, জীবনের সঙ্গী। সেই মাকেও হারিয়েছে প্রায় বছর দুয়েক আগে। বড় একা ছিল সে। মা-মারা যাওয়ার পর থেকে শুটিং আসত সবসময় লেট করে, আমরা জিজ্ঞাসা করলেই বলতো ভাইয়া একা থাকি, ঘুম থেকে উঠতে পারি না। পরিচালক এবং আমরা কিছু বলতাম না কারণ যখন অভিনয় শুরু করতো কিঞ্চিত পরিমাণে ভুল হতো না এই মেয়েটির, এক শট দ্বিতীয়বার দিত না। পরিচালক হাসি দিয়ে বলতো ওকে হিমু আপু বা হিমু চলেন লাঞ্চ ব্রেক।
হাহাকার প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারাক্ষণ মেকআপের টেবিলে, চেয়ারে বসে ফাঁক পেলে ঘুমিয়ে পড়তো। ধমকের সুরে বলতাম হিমু। সে বলতে বলো আমি কি ঘুমিয়েছি নাকি? চলো একবার রিহার্সেল করে নেই।
আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না হিমু সত্যি সত্যি ঘুমিয়ে গিয়েছে চিরজীবনের মতো, আর তাকে দেখতে পাব না শুটিং সেটে।
পরিচালক আর অভিযোগ করবে না হিমু সেটে আসে নাই সিদ্দিক ভাই। ওকে নিয়ে আর কোনো কথাই শুনতে হবে না আমাদের। তবে ফজরের নামাজের পর শুধু একটা কথাই বলতে চাই সবাইকে হুমায়রা হিমুর জন্য দোয়া করবেন। মা মরা এতিম মেয়েটাকে যেন আল্লাহপাক ভালো রাখেন পরকালে এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের নসিব করেন। আল্লাহপাক সবাইকে হেফাজত করুন।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিমুর রহস্যজন মৃত্যু হয়। উত্তরায় নিজ বাসায় তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী টিভি নাটকে নিয়মিত মুখ ছিলেন। ছোটপর্দার পাশাপাশি ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় এই অভিনেত্রীর জন্ম হয়। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্য জগতে প্রবেশ করেন হিমু।
এইউ