দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় পর্দায় শাহরুখ খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের জুটি দর্শকের কাছে বেশ পরিচিত ছিল। ‘জোশ’, ‘মহব্বতেঁ’ ও ‘দেবদাস’-এর মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। সম্পর্কও ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। কিন্তু একসময় সেই সমীকরণে আসে পেশাগত দূরত্ব। শাহরুখের কয়েকটি সিনেমা থেকে বাদ পড়েন ঐশ্বরিয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘চলতে চলতে’।
ঘটনাটি নিয়ে বহু বছর পরও নানা আলোচনা রয়েছে। ঐশ্বরিয়া নিজেও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শাহরুখের সঙ্গে আরও কয়েকটি সিনেমায় কাজ করার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই সেগুলো আর হয়নি। তবে কেন হয়নি, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি পাননি।
‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল’ অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘এর উত্তর আমি কীভাবে দেব? তখন কয়েকটি সিনেমায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করার কথা ছিল। এরপর হঠাৎ করেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেগুলো আর হচ্ছিল না। কেন এমন হয়েছিল, তার উত্তর আমি কখনো পাইনি।’
সিমি গারেওয়াল তখন তাকে জানান, শাহরুখ এক সাক্ষাৎকারে এ সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। ঐশ্বরিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে জড়িয়ে পড়া তার ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছিলেন তিনি। তবে ঐশ্বরিয়ার কাছে বিষয়টির উত্তর তখনও অজানা ছিল।
‘চলতে চলতে’ সিনেমার ক্ষেত্রে ঘটনাটি আরও আলোচিত হয়। সিনেমাটির জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন ঐশ্বরিয়া। শাহরুখ খান ও জুহি চাওলার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ড্রিমজ আনলিমিটেডের প্রযোজনায় সিনেমাটির শুটিংও শুরু হয়েছিল তাকে নিয়ে। পরে মাঝপথে ঐশ্বরিয়ার জায়গায় নেওয়া হয় রানি মুখার্জিকে।
সেই সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সালমান খানের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে শুটিং সেটে সালমানের হস্তক্ষেপের জেরে তাকে সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দাবির সত্যতা শাহরুখ বা ঐশ্বরিয়া কেউই নিশ্চিত করেননি।
ঐশ্বরিয়ার কাছে ঘটনাটি ছিল আকস্মিক। তিনি বলেছিলেন, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে পড়লে একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই হতবাক, বিভ্রান্ত ও কষ্ট পান। তবে কাউকে গিয়ে কেন এমন করা হলো, তা জিজ্ঞেস করার স্বভাব তার ছিল না।
ঐশ্বরিয়ার ভাষায়, কেউ যদি কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তিনি নিজেই তা দেবেন। আর যদি না দেন, তাহলে হয়তো তিনি ব্যাখ্যা দিতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে নিজের মধ্যে প্রশ্ন থাকলেও সরাসরি কাউকে গিয়ে কারণ জানতে চাননি তিনি।
তবে এই ঘটনায় ক্যারিয়ার থেমে যায়নি ঐশ্বরিয়ার। নিজের হাতে থাকা অন্য কাজগুলো চলতে থাকায় এমন পরিস্থিতিতে তাকে পড়তে হয়নি যে, একসঙ্গে কয়েকটি সিনেমা হারিয়ে এখন ক্যারিয়ার নিয়ে কী করবেন।
এরপর ২০০৩ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন শাহরুখও। ঐশ্বরিয়াকে ‘চলতে চলতে’ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য ছিল, কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও কারও সঙ্গে একটি সিনেমার কাজ শুরু করে পরে তাকে বদলে দেওয়া খুবই কঠিন এবং দুঃখজনক। ঐশ্বরিয়া তার ভালো বন্ধু বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শাহরুখ জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেছিলেন সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। তবে প্রযোজক হিসেবে সেই সিদ্ধান্তকে সে সময় যুক্তিসংগত মনে হয়েছিল। এ জন্য ঐশ্বরিয়ার কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের ভিডিওতেও শাহরুখকে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি জানান, প্রযোজক হিসেবে সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি তার একার হাতে ছিল না। তার সঙ্গে অন্য প্রযোজক ও দলের সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন। ১০ থেকে ১১ জনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখের সেই পেশাগত দূরত্ব বহু বছর আগের ঘটনা। পরে দুজনকে আবারও একসঙ্গে দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে করণ জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে ছিলেন রণবীর কাপুর ও আনুশকা শর্মা।
/অ