দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিনেমার নাম ঠিক করতে বলিউডে কুসংস্কারের গল্প নতুন নয়। কোনো শব্দ বা অক্ষর সাফল্য এনে দিয়েছে মনে হলে একই নাম বা বানান বারবার ব্যবহার করার ঘটনাও আছে। কিন্তু এমন একটি শব্দ আছে, যা বারবার ব্যবহার করেও সাফল্য আসেনি। বরং প্রায় চার দশকে ওই শব্দটি পুরো বা আংশিকভাবে থাকা নয়টি সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে।
শব্দটি হলো ‘কার্জ’। উর্দু এই শব্দের অর্থ ঋণ বা ধার। বলিউডে তিনটি সিনেমার নাম সরাসরি ‘কার্জ’ রাখা হয়েছিল। আরও ছয়টি সিনেমার নামের অংশ ছিল শব্দটি। নয়টি সিনেমার কোনোটিই বক্স অফিসে সফল হয়নি।
প্রথম ‘কার্জ’ মুক্তি পায় ১৯৮০ সালে। সুভাষ ঘাই পরিচালিত সিনেমাটিতে ঋষি কাপুর ও সিমি গারেওয়াল অভিনয় করেন। পরে একই নামে আরও সিনেমা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবারই ফলাফল ছিল হতাশাজনক।
ঋষি কাপুরের ক্যারিয়ারেও প্রভাব
১৯৮০ সালের ‘কার্জ’ সিনেমায় ঋষি কাপুর অভিনয় করেন একজন রকস্টারের চরিত্রে। গল্পে তিনি আবিষ্কার করেন, তিনি আসলে রাজ কিরণের অভিনীত চরিত্রের পুনর্জন্ম। এরপর আগের জীবনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন তিনি।
সিমি গারেওয়াল, টিনা মুনিম ও প্রাণও অভিনয় করেছিলেন সিনেমাটিতে। হলিউডের ১৯৭৫ সালের থ্রিলার ‘দ্য রিইনকারনেশন অব পিটার প্রাউড’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল সিনেমাটি।
তবে মুক্তির সময় বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ‘কার্জ’। সিনেমাটি আয় করেছিল প্রায় ৪ কোটি রুপি। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ফিরোজ খানের ‘কুরবানি’ দর্শকদের বড় অংশ টেনে নেওয়ায় সিনেমাটি পিছিয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে নিজের আত্মজীবনীতে ঋষি কাপুর লিখেছিলেন, সিনেমাটির ব্যর্থতা তাকে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চিত করে তুলেছিল এবং তিনি বিষণ্নতায় ভুগেছিলেন। অবশ্য সময়ের সঙ্গে ‘কার্জ’ নতুন দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে সিনেমাটির গানগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
২৮ বছর পর ফিরেও ব্যর্থ
‘কার্জ’ নামটি আবার ফিরে আসে ২০০৮ সালে। এবার সিনেমাটির নাম দেওয়া হয় ‘কার্জ্জ্জ’। এতে ঋষি কাপুরের ভূমিকায় অভিনয় করেন হিমেশ রেশমিয়া। সঙ্গে ছিলেন উর্মিলা মাতন্ডকর, শ্বেতা কুমার, ড্যানি ডেনজংপা ও ডিনো মোরিয়া।
প্রায় ২৪ কোটি রুপি বাজেটে তৈরি সিনেমাটি আয় করে মাত্র ১৬ কোটি রুপি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিনেমাটির ব্যর্থতায় নির্মাতারা দেউলিয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন।
সিনেমাটির ব্যর্থতার বড় প্রভাব পড়ে দুই নারী অভিনয়শিল্পীর ক্যারিয়ারে। মুক্তির আগে প্রতিষ্ঠিত তারকা উর্মিলা মাতন্ডকর এরপর আর বড় কোনো সিনেমায় নিয়মিত কাজের সুযোগ পাননি। আর এই সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হওয়া শ্বেতা কুমারও এরপর আর বলিউডে দেখা যায়নি।
একের পর এক ‘কার্জ’, ফল একই
শুধু এই দুটি সিনেমাই নয়, ‘কার্জ’ শব্দটি থাকা আরও কয়েকটি সিনেমাও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। ১৯৮৮ সালের ‘কার্জ তেরে খুন কা’, ১৯৯০ সালের ‘দুধ কা কার্জ’ ও ‘পেয়ার কা কার্জ’, ১৯৯১ সালের ‘কার্জ চুকানা হ্যায়’ ও ‘মহান কার্জ’ এবং ২০১৬ সালের ‘দুধ কা কার্জ’ও দর্শক টানতে পারেনি।
২০০২ সালে হ্যারি বাওয়েজা পরিচালিত ‘কার্জ: দ্য বার্ডেন অব ট্রুথ’ সিনেমায় অভিনয় করেন সানি দেওল, সুনীল শেঠি ও শিল্পা শেঠি। সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রায় ১৫ কোটি রুপি আয় করলেও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়।
অন্যদিকে ‘কার্জ’ শব্দটি থাকা বাকি ছয়টি সিনেমার কোনোটি ভারতীয় বক্স অফিসে ৫ কোটি রুপির গণ্ডিও পেরোতে পারেনি।
এভাবে প্রায় ৪০ বছরের ব্যবধানে ‘কার্জ’ নাম বা নামের অংশ থাকা নয়টি সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। এর ফলে বলিউডের এই শব্দটিই হয়ে ওঠে সিনেমার শিরোনামের ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ‘অশুভ’ উদাহরণ।
তবে হিন্দি সিনেমার শিরোনামে উর্দু শব্দ ও বাক্যাংশের ব্যবহার কমে আসায় গত ১০ বছরে বলিউডে আর কোনো ‘কার্জ’ সিনেমা দেখা যায়নি।
/অ