দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ (বিকুল) কে হেনস্তা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। শনিবার ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্র–জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে বিরোধিতার অভিযোগ তুলে তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে সরকার পতনের পর দ্বিতীয়বারের মতো তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হলো।
জানা গেছে, শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে বাংলা বিভাগের একটি সভায় অংশ নেন বাকি বিল্লাহ। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাইরে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তখন বিভাগের সভাপতি বেলা ২টা পর্যন্ত সময় চাইলে শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানান। পরে এক শিক্ষকের মধ্যস্থতায় তাকে সভাকক্ষ থেকে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়িতে করে ক্যাম্পাস থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা মিছিল করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বাকী বিল্লাহ আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সমর্থক। বিভিন্ন সময়ে তাকে আওয়ামী লীগপন্থী মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। এর জেরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগের দাবি জানায়। তবে এ আন্দোলনে বাংলা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি অংশ নেননি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক মুখলেসুর রাহমান বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন শিক্ষক বাকী বিল্লাহ। ছাত্রদের পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করতে তিনি অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা যা করেছেন, তাতে সংহতি জানানো হয়েছে। তিনি ছাত্রদের পাশে না থেকে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে যা করেছেন, তাতে তিনি শিক্ষক হিসেবে নৈতিকতা হারিয়েছেন।’
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট কলামিস্ট ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক আবদুল মুঈদের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বাকী বিল্লাহকে হেনস্তা করা হয়। সেদিনও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে শিক্ষক বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অমূলক। আমি একটা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ছিলাম। সেখানে থাকার সময় ছাত্রদের কোনো ক্ষতি হয়, সেটা কখনোই করি নাই। আমি আওয়ামী আদর্শের সৈনিক। আজকের ঘটনায় আমি ভাষাহারা, ব্যথিত। আমি কষ্ট পেলেও শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
আরএ