দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ইস্যুতে এবার বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা বিদেশিদের খোলা চিঠির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের ৫০ জন বিশিষ্ট সম্পাদক বিবৃতির প্রেক্ষিতে ইউট্যাব নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি বলছে, সম্পাদকদের এমন বিবৃতি হতাশাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে সম্পাদকেরা নিরপেক্ষ পেশাজীবী হিসেবে তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। এমনিতেই গত প্রায় ১৫ বছরে বাংলাদেশে ভিন্নমতের নেতাকর্মী ও বরেণ্য ব্যক্তিদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। ড. ইউনূসও সেই টার্গেটের শিকার। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগও বাদ যায়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিচারাঙ্গণে যা ঘটেছে সেগুলো আওয়ামী দলীয়করণের নগ্ন উদাহরণ। সুতরাং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আদালতে যেসব মামলা করা হয়েছে তা কল্পনাপ্রসূত।
তারা বিবৃতিতে বলেন, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে তখনই গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক হিসেবে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়, প্রশংসনীয় এবং অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কয়েক বছর পরই তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার দেশে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করেছিল। সেসময় ৪টি বাদে সব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছিল। সেই বাকশালের সময়ও কিন্তু গণমাধ্যম তাদের ভূমিকা রেখেছে। এরপর নব্বইয়ের দশকে এইচএম এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজ যে ভূমিকা রেখেছে সেটা ইতিহাসের পাতায় চির অম্লান হয়ে আছে। এরশাদ সরকারের পতনের দাবিতে সেসময় চূড়ান্ত আন্দোলনের একপর্যায়ে সাংবাদিক সমাজ এরশাদের সংবাদ পরিবেশনও বর্জন করেছিল।
ইউট্যাবের শীর্ষ দুই নেতা আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। এই সংকটকালে সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যম তাদের যে ভূমিকা রাখার কথা সেভাবে রাখতে পারছে না। সাংবাদিক সমাজকেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিধাবিভক্ত করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বহু কালাকানুন গণমাধ্যমের নাকের ডগায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দেশের সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মতামত দেওয়ার পাশাপাশি পেশাজীবী সমাজ হিসেবে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের উচিৎ তাদের স্বাধীনতার বিষয়ে আরও বেশি তৎপর হওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে বিদেশিদের খোলা চিঠির প্রতিবাদে বাংলাদেশের ৫০ জন সম্পাদক যে বিবৃতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে হতবাক করেছে। আজকে হঠাৎ করে ড. ইউনূস কেন সরকারের টার্গেটের শিকার, গণমাধ্যমের উচিৎ সে বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান সংবাদ জাতির সামনে তুলে ধরা। অথচ সে বিষয়ে সম্পাদকবৃন্দ কিছুই বলছেন না।
এইউ