দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নগর জীবনে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম ভরসা। এবার এই দুই বাহন আসতে পারে করের আওতায়। আগামী বাজেটে রাজস্ব বাড়ানোর এই উদ্যোগে সরকারের আয় বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। তবে সম্ভাব্য এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাইকার ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে।
অন্যদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইকের কর আহরণ সম্ভাবনাময় হলেও অটোরিকশাকে করের আওতায় এনে বৈধতা দেওয়া হলে এর দৌরাত্ম্য বাড়তে পারে। এতে দুর্ঘটনায় যে আর্থিক ক্ষতি হবে তা অর্জিত করের সঙ্গে বিবেচনারও বিষয়।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন কৌশল নিতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সিসিভেদে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব থাকছে।
সরকারের হিসাব বলছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে করযোগ্য বাইক প্রায় ৩৮ লাখ। গড়ে প্রতিটি বাইক থেকে ৪ হাজার টাকা কর আদায় করা গেলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসতে পারে। আর অটোরিকশা রাজধানীতে চলাচল করছে ১০ থেকে ১৪ লাখ। সারাদেশে এর সংখ্যা প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ বলে দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেল অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে বড় সিসির মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপকে তিনি যৌক্তিক মনে করেন।
তার মতে, অটোরিকশাকে করের আওতায় এনে বৈধতা দিলেও দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, তা রাজস্ব আয়ের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও কর আরোপের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
/অ