দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ দপ্তরে আয়োজিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এবং শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা এবং পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী। অন্যদিকে, আইএমএফ প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনিয়র ইকোনমিস্ট কিয়াও চেন, সিনিয়র ইকোনমিস্ট রুইফেং ঝাং এবং ইকোনমিস্ট আয়া সাইদ।
আইএমএফ-এর পক্ষ থেকে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে পোশাক খাতের অবস্থা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার কৌশল নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গভীর মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় মার্কিন শুল্কনীতির সম্ভাব্য প্রভাব, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরবর্তী পরিস্থিতি, টেকসই প্রবৃদ্ধির কৌশল, মূল্য-সংযোজিত পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব।
বিজিএমইএ নেতারা জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান তুলে ধরে জানান, শিল্পটি এখন শ্রমনির্ভর মডেল থেকে বেরিয়ে উচ্চমূল্যের ও প্রযুক্তিনির্ভর মডেলে রূপান্তরের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ম্যান-মেইড ফাইবার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল পণ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, ব্যাবসা সহজীকরণ ও পরিচালন ব্যয় হ্রাসে করণীয় বিষয়ে আলোচনায় বিজিএমইএ নেতারা জানান, তারা ইতোমধ্যে সরকারকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা, বন্দর ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, কাস্টমস ও বন্ড প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সুদের হার এক অঙ্কে আনা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত সম্পন্নের সুপারিশ করেছে।
বিজিএমইএ আরও জানিয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা বজায় রাখতে তারা সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার অনুরোধ জানিয়েছে।
বৈঠক শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পোশাক খাতের অবদানকে প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করে।
/অ