দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এরই মধ্যে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় দেশের বাজারেও যে কোনো সময় বাড়ানো হতে পারে। এতে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে দেশের বাজারে এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জুন মাস থেকে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা শুরু হয়। গত ৭ জুন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ২ হাজার ২৯৩ ডলার। এরপর দফায় দফায় দাম বেড়ে ১৬ জুলাই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৪৬৮ ডলারে ওঠে।
অবশ্য এখানেই স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা থামেনি। এরপরও স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা চলতে থাকে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ইতিহাসে প্রথমবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে। এই রেকর্ড গড়ার পরও স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬৮২ ডলার পর্যন্ত ওঠে।
এই রেকর্ড দাম হওয়ার পর কমার প্রবণতা দেখা যায়। কয়েক দফায় দাম কমে ১ অক্টোবর প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬৩১ ডলারে নেমে আসে। এরপর কয়েক দফায় স্বর্ণের দামে উত্থান-পতন হলেও দাম কমার পাল্লাই ভারী হয়। এতে ১০ অক্টোবর লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬০৬ ডলারে নেমে যায়।
এই মূল্য সংশোধনের পর ১০ অক্টোবর লেনদেনের শেষদিকে আবার স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা শুরু হয়। যা অব্যাহত থাকে সপ্তাহজুড়েই। এতে গত সপ্তাহের লেনদেন শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭২১ ডলারে। গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দমি ছিল ২ হাজার ৬৫৭ ডলার।
এ হিসাবে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে ৬৪ ডলার বা ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষদিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪৮ ডলার বা ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এতে মাসের ব্যবধানে সোনার দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে যে কোনো সময় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হতে পারে বলে বাজুসের একজন দায়িত্বশীল সদস্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে যে হারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে, তাতে দেশের বাজারে দাম অবশ্যই বাড়াতে হবে। বাজুসের সংশ্লিষ্ট কমিটি বৈঠক করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারেও কিছুটা কমানো হয়। সে সময় সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৫৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২০১ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৪ টাকা কমিয়ে ৯২ হাজার ২৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে এ দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
এই দাম কমানোর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর সব থেকে সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৪৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৮৯৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৪৯৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১২২ টাকা বাড়িয়ে ৯৩ হাজার ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেশের বাজারে এটিই এখন পর্যন্ত স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।
কে