দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাতারের রাজধানী দোহায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।
সোমবার দোহার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ফোরামের সেন্টার স্টেজে ‘Invest in Bangladesh: The Billion-Dollar Opportunity Hiding in Plain Sight’ শীর্ষক অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবরের এই ফোরামে ইনভেস্ট বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল অধিবেশনটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ বাজার কীভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কেও জানান।
উপস্থাপনায় সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বন্দর স্থাপনা এবং মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব প্রকল্পে উন্নয়নকারী, পরিচালনাকারী, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীরা কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়।
নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, “আমরা যেসব প্রকল্প তুলে ধরেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়েও অংশীদাররা আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ভূমিকা রাখতে পারে। আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব। কোন প্রকল্পে কীভাবে যুক্ত হওয়া যায় এবং আমরা কীভাবে সহায়তা করতে পারি, তা নিয়ে কথা হবে।”
ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফোরামের প্রথম দিনে জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ কীভাবে সমন্বিত প্রতিষ্ঠানের আওতায় এসেছে, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।
অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় এ মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেন আশিক চৌধুরী। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে বর্তমানে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিনিয়োগবিষয়ক পৃথক এক মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আরও বেশি তুলে ধরতে আঙ্কটাডের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রপ্তানি ঋণের মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
এমএস/