দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ, অথচ এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ২ থেকে ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে রাখার লক্ষ্য থাকলেও আইএমএফের পূর্বাভাস ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থনীতির দুই গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে বড় ব্যবধান। প্রশ্ন, বাস্তব পরিস্থিতিতে বাজেটের এই লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জনযোগ্য? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার ছাড়া চাপ কমানো কঠিন।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ। অথচ এডিবির পূর্বাভাস ৪, বিশ্বব্যাংকের ৩ দশমিক ৪ এবং আইএমএফের ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পূর্বাভাস ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম।
মূল্যস্ফীতিতেও বড় ব্যবধান। সরকারের লক্ষ্য সাড়ে ৭ শতাংশ। বিপরীতে, এডিবির পূর্বাভাস ৯, বিশ্বব্যাংকের ৮ দশমিক ৬ এবং আইএমএফের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা।
অর্থনীতিবিদ ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিমের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা বাধাগ্রস্ত করছে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি নয়, বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোও জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ। পাশাপাশি, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো, কর আদায় বাড়ানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ব্যাংক খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ মোকাবিলা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নেও দরকার সংস্কার। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আস্থা ফেরানো ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কে