দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই অর্থবছরও এই অবস্থান ধরে রাখতে পারে ঢাকা। তবে এই ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরেই আবারও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। আর ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ দুই দেশের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইএমএফের সর্বশেষ 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' ডেটাবেজ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বর্তমান মার্কিন ডলারের মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা ২ হাজার ৭৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান মাত্র ১৩৬ ডলার।
অর্থনীতির আকার প্রায় আট গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের পেছনেই থাকবে ভারত। তবে আইএমএফের প্রক্ষেপণ বলছে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৬২ ডলারে, যা বাংলাদেশের ৩ হাজার ৩৩৪ ডলারকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ এই ব্যবধান আরও বেড়ে প্রায় ৭০৯ ডলারে পৌঁছাবে; তখন ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ৪ হাজার ৩৮৯ ডলার এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৮০ ডলারে।
এর আগে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর ভারতের চেয়ে বেশি মাথাপিছু জিডিপি বজায় রেখেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশেকে পেছনে ফেলেছিল ভারত।
একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করা হয়। সাধারণত জনপ্রতি গড় অর্থনৈতিক উৎপাদন পরিমাপে এটি ব্যবহৃত হলেও এটি জনগণের আয় বণ্টন বা জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়ের নিখুঁত চিত্র তুলে ধরে না।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনায় নিলে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ভিত্তিতে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে এখনও বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে ভারত। পণ্য ও সেবামূল্যের পার্থক্য সমন্বয় করে এই সূচক নির্ধারিত হয়।
আইএমএফের ডেটাবেজ অনুযায়ী, পিপিপি ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপির প্রক্ষেপণ ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার, যেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার। অর্থাৎ এই হিসাবে বাংলাদেশ থেকে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ এগিয়ে ভারত। ১৯৯৪ সাল থেকেই এই সূচকে টানা এগিয়ে রয়েছে দিল্লি এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যবধান প্রায় ৪৫ শতাংশে উন্নীত করবে দেশটি।
এ ছাড়া বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে এগিয়ে থাকলেও পুরো পূর্বাভাস সময়জুড়েই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে থাকবে ভারত।
দেশটির সামগ্রিক জিডিপির আকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
এর বিপরীতে এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রেকর্ড করতে পারে বাংলাদেশ। দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ২০২৭-২৮ অর্থবছরে কমে ২ দশমিক ২১ শতাংশে নামার পর ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ তা সামান্য পুনরুদ্ধার হয়ে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এই প্রক্ষেপণ ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আইএমএফের বর্তমান অনুমানকে অনেক পিছিয়ে রেখেছে। আইএমএফের হিসাবে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ ৬৭৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সামগ্রিক দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও বেশ কয়েকটি দেশের পেছনে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৫০৭ ডলার নিয়ে এই অঞ্চলে সবার শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। এর পরেই রয়েছে শ্রীলঙ্কা (৫,০৬২ ডলার) এবং ভুটান (৪,৯৩৩ ডলার)। তালিকায় পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৬ ডলার এবং নেপালের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫৪০ ডলার প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
কেএম