দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে আসার মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ পূর্বাভাসে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সেবা খাতের গতিশীলতা এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
১৩ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬-এর `ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরভিত্তিক হিসাবে ২০২৬ ও ২০২৭—উভয় বছরেই ভারতের অর্থনীতি ৭ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হয়েছিল। নতুন পূর্বাভাসে তা ০ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় বৃদ্ধির পরিমাণ ০ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। একইভাবে, ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও জুলাইয়ের তুলনায় ০ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পঞ্জিকাবর্ষভিত্তিক হিসাবে ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।
ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর বিপরীতে বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বৈশ্বিক সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। পরের বছর তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমএফের মূল্যায়নে, বিশ্ব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হলেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ এবং নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় ঝুঁকি বাড়ছে। সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকিগুলো মূলত নেতিবাচক দিকেই কেন্দ্রীভূত।
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায়ও ভারতের প্রবৃদ্ধির ব্যবধান উল্লেখযোগ্য। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, চীনের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যয়ে মন্দাকে দেশটির প্রবৃদ্ধি কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এ হিসাবে ২০২৬ সালে চীনের তুলনায় ভারতের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালে এই ব্যবধান বেড়ে ৩ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭—উভয় বছরেই শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় উত্থান-পতনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতি নিয়ে। ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দেশটির অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
তবে ২০২৭ সালে সৌদি আরবের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় এ হার ২ দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালে সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধি ভারতের চেয়েও সামান্য বেশি হবে।
ভারতের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা, সেবা খাতের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে আইএমএফ।
দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানেও অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রতিফলন দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ৭ শতাংশের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল বলে জানিয়েছে আইএমএফ।
সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশটিকে প্রবৃদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির নিম্নমুখী ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আগামী দিনগুলোতে ভারতের প্রবৃদ্ধির গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়া টুডে
এমএস/