দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সড়কে দাঁড়িয়ে অসুস্থ যাত্রীর স্বজন সেজে গাড়িতে উঠে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করেন গাড়ি। পরে গাড়ি ফেরত দেওয়ার কথা বলে ফোন করে হাতিয়ে নেয় টাকা। এমনই এক ছিনতাই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা প্রাইভেটকার, পিকআপ, ৪টি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
রেবাবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
এর আগে শনিবার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- মো. রানা (৩০), মো. বিশাল (২৩), মো. রুবেল (২২), মো. রাব্বী (২২) ও মো. নয়ন ইসলাম (২৪)।
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, চক্রটি সড়কে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামার সংকেত দিয়ে অসুস্থ যাত্রীর স্বজনবেশে গাড়িতে উঠে অস্ত্রের মুখে গাড়ি ছিনতাই করে। ছিনতাই করা গাড়ি ফেরত দেওয়ার নামে আবারও টাকা আদায় করত। এই মামলায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে গাড়ি ফেরত দেওয়ার কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায় করে।
এরপর সেই প্রাইভেটকার ব্যবহার করে মালবাহী পিকআপ ছিনতাই করে। চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করা পিকআপ দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ তদন্তে নেমে এই সব অপরাধের সন্ধান পায়।
তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা এক সময় মোবাইল ফোন ছিনতাই করতো। এরপর তারা গাড়ি ছিনতাই শুরু করে। সাধারণত তাদের সবার পেশা লেগুনা চালক ও হেলপার হিসেবে কাজ করা। তারা ধারালো অস্ত্র ও মুখে ব্লেড রাখে। চক্রের প্রত্যেক সদস্যের নামে একাধিক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর এই চক্রের ছিনতাইরে শিকার হন রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা রেন্ট এ কার গাড়িচালক কাজল চন্দ্র মহন্ত (৩২)। কারওয়ান বাজার সোনারগাঁও মোড়ে গাড়ি থামিয়ে স্বজনের অসুস্থতার কথা বলে অনুনয় করে গাড়িতে ওঠেন। গাড়িটি হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি যাওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা চালকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর চালক কাজলকে হাত-পা বেঁধে গাজীপুর কালিয়াকৈর রেল গেট এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময়ে তার মোবাইল ফোন কিংবা টাকা পয়সা না নিলেও মোবাইল নম্বর নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।
একই কায়দায় ১৯ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে পিকআপ ভ্যান হারিয়েছেন মো. দেলোয়ার। আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় একটি প্রাইভেটকার দিয়ে তার গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে তার হাত-পা বেঁধে মালামাল ভর্তি পিকআপ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আর দেলোয়ারকে একটি পুকুরে ফেলে দেন। পরে নিজের চেষ্টায় কোনমতে প্রাণে বাঁচেন তিনি।
ডিবি হারুন বলেন, গ্রেপ্তারের পর তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। দুই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কলাবাগান ও আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ডিএমপির গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম ছায়া তদন্তে নেমে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) লিডার এম. রাকিবুল হাসান ভূঞার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এও