দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অনলাইনে স্টার মেকার অ্যাপের মাধ্যমে অভিনব প্রতারণা ও অর্থ-সম্পদ লুট চক্রের হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। গ্রেপ্তার আসামি মাসুদ রানা ওরফে সাকিব খাঁন (৩৯) পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার গোনাইগাছি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। এই প্রতারক অ্যাপের মধ্যমে সম্পর্ক গড়ে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পাবনা থেকে তাকে আটকের পর হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার রোববার খুলনা থেকে উদ্ধার করা হয়। এদিন আদালতে প্রতারক মাসুদ রানা ওরফে সাকিব খাঁন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) পিবিআই অনলাইনে এই প্রতারণার বিস্তারিত জানিয়েছে।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, প্রতারক মাসুদ রানা ওরফে সাকিব খাঁন স্টার মেকার অ্যাপে নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে গান পরিবেশন করত। স্টার মেকার অ্যাপে সাকিব খাঁন (ফাহিম) আইডির মাধ্যমে যশোরের এক স্কুল শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সাকিব।
পরবর্তীতে আরও টাকা চাইলে গত ৭ জুলাই ওই শিক্ষিকা যশোরের চাঁচড়া এলাকায় সাকিবের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তাকে ওষুধমিশ্রিত জুস খাইয়ে সম্মোহন করে দুই লাখ ৪১ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, আংটি ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই স্কুল শিক্ষিকা ১৫ জুলাই পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পিবিআইয়ের এসআই রেজোয়ান ছায়া তদন্ত করে জানতে পারেন মাসুদ রানা ওরফে সাকিব খাঁন (৩৯) পেশায় একজন কৃষক। সে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। সে পেশায় কৃষক হলেও মূলত স্টার মেকার অ্যাপে আর্মি ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকর নিয়ে নেয়। বিভিন্ন জেলায় একাধিক নারীর সঙ্গে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে পিবিআইয়ের একটি দল পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা উপজেলার থানা রোডের ওমর ট্রেডার্সের সামনে থেকে সাকিবকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকালে তার কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং পরবর্তীতে আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাদীর নিকট থেকে নেওয়া স্বর্ণালংকার খুলনার হেলাতলা রোডস্থ নিউ অনিমা জুয়েলার্সে থেকে ১২.৫৮ গ্রাম গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সাকিব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালালের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
এইউ