দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ার শেরপুরে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটের বিরুদ্ধে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেরপুরের ফলপট্টি এলাকার মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বাদী হয়ে শেরপুর থানায় এজাহার দাখিল করেন।
এজাহার ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীদের হুমকি দেন। তাঁদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রবাসী আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সম্রাটের মদদে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানটিতে ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ধমক ও শাসাতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান ও তাঁর সন্তানদের খুঁজতে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে হামলাকারীরা দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে এজাহারে।
ঘটনার পর যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় এজাহার দাখিল করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল মান্নানের ছেলে ও পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত।
আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, তিনি শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরও তাঁদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত ও হতবাক। তাঁর অভিযোগ, যুবদলের নাম ব্যবহার করে সম্রাট সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করে ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর বাহিনী দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।
রাফাত আরও বলেন, তাঁর বাবা একজন ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এমএস/