দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক মাস পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে গত ১৩ আগস্ট এবং অপর দুজনকে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত আহাদ হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চান্দেরকোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, আসাদুল শেখ ও মো. আরিফ হাওলাদার বাবু।
পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধ, পরকীয়া সম্পর্ক ও এর জেরে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রথম পর্যায়ে ১৩ আগস্ট চান্দেরকোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আসাদুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, আসাদুলকে গ্রেপ্তারের সময় তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিহত আহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়।
পরে আসাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১১টার দিকে একই গ্রামের মো. আরিফ হাওলাদার বাবুকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং হত্যার কারণ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের আগে থেকেই পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে আহাদের মা মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে জাহিদুলের নিজের পরিবারের সঙ্গেও পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল।
পুলিশের দাবি, এসব বিরোধের জেরে জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন আহাদ হাওলাদার, তাঁর মা মনিরা বেগম ও পরিবারের আরেক নারী সদস্য।
৪ আগস্ট দুপুরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এমএস/