দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামের ব্যবসায় বিনিয়োগ করা ১২ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মাজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্য ও স্বজনেরা অংশ নেন। তারা বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ অনেকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২০ সালে জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসা শুরু করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।
তাদের ভাষ্য, বিনিয়োগের পর লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে টাকা ফেরত পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তারা প্রতিকার পাননি।
ভুক্তভোগীরা বলেন, অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আমীরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অর্থ ফেরতের বিষয়ে সমাধান না হওয়ায় পরে মামলা করা হয়েছে। একটি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিনিয়োগকারীদের ১২ কোটি টাকা ফেরতের দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে শান্তিপূর্ণভাবে আরও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন ভুক্তভোগীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিশন এন্টারপ্রাইজ মূলত রফিকুল ইসলাম (রাজারহাটের) ব্যক্তিগত ব্যবসা। ২০২০ সালে ভবিষ্যতে যৌথভাবে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম, তিনি, রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ও আব্দুস সালাম সুজার মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু হয়নি। তাকে ওই চুক্তির মাধ্যমে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট) বলেন, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা, রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) এবং তিনি পরিচালক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভিশন এন্টারপ্রাইজের ব্যবসা শুরু করেন। চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন ও মাওলানা জাহিদুল ইসলামও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে দাবি করেন তিনি। ছয় পরিচালকই ব্যবসা থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই ব্যবসার লাভ-ক্ষতির দায়ও তাদের সবার।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে তিনি অন্য পরিচালকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ৪০টির বেশি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আমীর আজিজুর রহমান স্বপন অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট)-এর রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে স্থগিত করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অপর দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তে তেমনভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসঙ্গত যেকোনো পদক্ষেপে জামায়াত পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
যে আই