দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভাইরাল হওয়ার নেশা কতটা ভয়ংকর হতে পারে—তারই যেন নির্মম উদাহরণ। নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক বোনকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগ উঠেছে ২০ বছর বয়সী মেহেদী হাসান সিয়ামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে খলিলপুর এলাকা থেকে ওই যুবককে আটক করে।
আটক মেহেদী হাসান ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশু বোন (৫) স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। মেহেদী মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকতেন। কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে লোকজন রিপোর্ট করার কারণে ওই ভিডিওটি সরিয়ে নেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। পরে ২৩ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের আরেকটি ভিডিও আপলোড হয়। সেখানে দেখা যায়, এক যুবক একটি শিশুকে কোলে নিয়ে আপত্তিকর আচরণ করছেন। ওই ভিডিওটি মুহূর্তেই ফেসবুকে ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
সিয়াম তার ফেসবুক পেজ ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি তিনি ফেসবুক পেজটি খোলেন। এরপর থেকে নানান ধরনের বিকৃত ও রুচিহীন ভিডিও আপলোড করতে থাকেন। এই ফেসবুক পেজে তিনি এ ধরনের শতাধিক মানহীন কনটেন্ট আপলোড করেছেন। একইসঙ্গে তার টিকটক আইডিতেও অন্তত ১৫৭ টি এমন মানহীন ভিডিও এডিটি করে আপলোড করেন। এসব ভিডিওতে তিনি নারী, শিশু ও যৌনতা নিয়ে নানা ধরনের অপতথ্য ও বিকৃত উপস্থাপনা করেন।
ফেসবুক পেজ ও টিকটক আইডি থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় ১৫৭ টির বেশি ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করলেও এসবের ভিউ চারশো থেকে পাঁচশর মধ্যে। তবে কিছু কিছু ভিডিও কয়েক হাজার ভিউ হয়েছে। তবে ওই ভিডিওটি আপলোড করার পরই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। শুধু টিকটকেই ভিডিওটি ১৬ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
ফেসবুকে এ ভিডিও নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হলে নিজের ফেসবুক পেজে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে লাইভে আসেন তিনি। ৫১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই লাইভে তিনি বলেন, আমার লাইভে ভিউ আসে না। তবুও প্রমাণ হিসেবে লাইভটা রেখে দিচ্ছি। আমি একটা বাচ্চা মেয়েকে চুমা দিছি। ওর গালটা অনেক সেনসেটিভ। তাই লাল হয়ে গেছে।
তিনি ওই লাইভে আরও বলেন,বাংলাদেশে দুই দিন পরপর একটা আইন বাইর হবে যে বোনকেও চুমা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না। লাইভের বিভিন্ন অংশে তিনি ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে গালমন্দ করেন।
মেহেদী হাসানের বাবা মাহবুবুর রহমান টিপলু বলেন, কী বলবো, বুঝতে পারছি না। ও টিকটকে এসব কী করেছে আমি ঠিক জানি না। পুলিশ আসার পর সব জানতে পেরেছি। ওরা দুইজনই তো আমার ছেলে-মেয়ে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। আমি লজ্জিত।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, ওই যুবককে পাবলিক নুইসেন্স করার অভিযোগে পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কেএম