দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুসন্তানকে অন্যের কাছে দেওয়ার পর এক লাখ টাকা নিয়ে সেই টাকায় আইফোন কেনার অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মারুফ মুন্সি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে দিয়ে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে নেন। এরপর বাজারে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মারুফ জানান, দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে লিখিতভাবে শিশুটিকে দিয়ে দিয়েছেন এবং বিনিময়ে এক লাখ টাকা নিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন বদলে নতুন আইফোন কেনেন।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে মারুফ সাভারে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে প্রায় তিন বছর পর মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফও ঢাকায় চলে যান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলে। সে বলেছিল, মুসাকে নিয়ে বাজারে যাবে। পরে অনেক সময় পার হলেও তারা ফিরে আসেনি। খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, নাতিকে অন্যের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই।’
শিশুটিকে নিজের কাছে রাখা ইমরান হোসেন বলেন, মারুফ আগে থেকেই তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই শিশুটিকে তার কাছে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে শিশুটিকে দেওয়ার ঘটনায় টাকা লেনদেন হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দশমিনা থানার ওসি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির বাবা তাকে চরকাজল এলাকার যার কাছে রেখে গেছেন, সেখান থেকে উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে ঢাকা থেকে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘এখানে টাকা-পয়সা লেনদেন হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ শিশুটির বাবা-মায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক নেই। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’
এমএম/