দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে নাব্যতা সংকটে ১৫ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে নাব্যতা সংকটকে ফেরি বন্ধ থাকার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর গাফিলতি ও চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে এ নৌপথে প্রায়ই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, চিলমারী-রৌমারী নৌপথে বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করা হতো। ফেরি কুঞ্জলতা প্রতি ট্রিপে ৮ থেকে ৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২ থেকে ১৩টি এবং কদম ৮ থেকে ৯টি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করত। পরে বেগম সুফিয়া কামাল ও কুঞ্জলতা ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে কদম ফেরিটি চলাচল করলেও নাব্যতা সংকটে সেটিও বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে মোট ৫৪১ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে থাকা ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। তিনিও ফেরি বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, সাত দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছি। ফেরি চলবে শুনলেও এখনো চলেনি। আজও ফেরি না চললে অনেক পথ ঘুরে ঢাকায় যেতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই দুই এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর কথা জানানো হলেও এখনো তা পাঠানো হয়নি। কয়েক দিন আগে রৌমারী গিয়ে ঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ দেখতে পেয়েছেন। ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় খননকাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু দুইশ বিঘা এলাকায় খনন চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেরি সার্ভিস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
এমএস/