দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সিলগালা করা প্রায় ৯ লাখ সিফটি বালু নিলাম ছাড়াই ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৬ আগস্ট রাত থেকে উপজেলার কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সিলগালা করা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি জানানোর পরও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় আগে থাকা দুটি পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি বালু পয়েন্ট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন। বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কেটে নদীর পিচিং বøক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড মো. মাহমুদুল হাসান বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩টি পয়েন্টের প্রায় ৯ লাখ সিফটি বালু জব্দ ও সিলগালা করে। একই মাসের ৩০ তারিখে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের রাস্তাগুলো ভেঙে দেন।
সিলগালা করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক মেম্বার ও মুকুল মন্ডল নামে দুজনের জিম্মায় দেওয়া হয়।
জিম্মাদার মুকুল মন্ডল বলেন, আসলাম হক মেম্বার নিজেই বালু ব্যবসার অংশীদার। তাঁকে জিম্মাদার করার সময়ই আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা, তাঁর পরামর্শেই বালু ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে জিম্মাদার মো. আসলাম হক মেম্বার বলেন, বালু নিয়ে যাওয়া সর্ম্পকে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জব্দকৃত বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএম