দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মৃত্যুর পর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ‘চল্লিশা’ খাওয়ানোর প্রচলিত ধারণাকে ভিন্নভাবে দেখিয়ে জীবিত থাকতেই অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন এক দম্পতি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের জন্য এ ভোজের আয়োজন করেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫)।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিদের বসে খাওয়ার জন্য মাঠজুড়ে সামিয়ানা টানানোর পাশাপাশি চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল।
ভোজের মেন্যুতে ছিল গরু ও খাসির মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এতে অংশ নেন।
আয়োজক মো. রফিকুল ইসলাম জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। এমন আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর আশঙ্কা ছিল। এ কারণেই জীবিত থাকতেই নিজের হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই তিনি এ আয়োজন করেছেন। বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দেওয়াই ছিল তাঁর ইচ্ছা।
রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, তাঁদের এলাকায় এ ধরনের আয়োজন আগে দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর চল্লিশার পরিবর্তে জীবিত অবস্থায় এ ভোজ আয়োজনের বিষয়টি রফিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাকপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেয়ে-জামাই বাবলু মিয়া, শান্তা আক্তার (২৫) ও রানা মিয়া (১৭)।
জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য ‘চল্লিশা’ আয়োজন করে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এ ঘটনাকে স্থানীয়দের অনেকে মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এমএস/