দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে ফেনীর সোনাগাজীতে তাঁর বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগে থেকেই সেখানে দুইজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলেও রোববার থেকে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। রায়কে ঘিরে নুসরাতের বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, রায়কে ঘিরে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের নির্দেশে অতিরিক্ত সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আগ থেকেই নুসরাতের বাড়িতে দুইজন পুলিশ সদস্য নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। রোববার থেকে তাঁদের সঙ্গে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য যুক্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ ২৪ আগস্ট মামলাটির রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এর আওতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। গত ২৮ জুলাই মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের করা আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শুরু হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন। রায়ে মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার মামলা করেন। পরে সিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগপত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে নিয়ে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাঁকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন—সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, নিম্ন আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আশা করি, হাইকোর্টেও ন্যায়বিচার পাব।
সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার আশা করছি।
এমএস/