দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও আইনজীবী মো. নয়ন মোল্লা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রবাসীর জমানো প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার তাঁর স্ত্রী হাফসা বেগম নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মো. লুৎফর রহমান।
রোববার বিকেলে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এসে এসব অভিযোগ করেন লুৎফর রহমান। এ ঘটনায় তিনি নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে লুৎফর রহমান জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলায় আইনজীবী নয়ন মোল্লার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি পুনরায় প্রবাসে চলে যাবেন—এমন কথা বলে মামলার বাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী হাফসা বেগমকে রাখার পরামর্শ দেন নয়ন। পরে মামলাটি পরিচালনার দায়িত্বও নেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, মামলার সূত্রে নয়নের সঙ্গে হাফসার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রবাস থেকে লুৎফর রহমানের পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে হাফসা বেগম নয়ন মোল্লার সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। গত ৩ আগস্ট বিষয়টি জানতে পেরে দেশে ফিরে স্ত্রী, সন্তান ও জমানো অর্থ না পেয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন বলে জানান।
লুৎফর রহমান বলেন, তাঁদের ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৮ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করে তিনি যে অর্থ ও স্বর্ণালংকার জমিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে স্ত্রী চলে যাওয়ায় তিনি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নয়ন মোল্লা তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করে এসব নিয়ে চলে যেতে সহায়তা করেছেন।
নয়ন মোল্লার রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয় নিয়েও অভিযোগে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করেছেন লুৎফর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়ন নরসিংদী জজ কোর্টের সহকারী সরকারি কৌঁসুলির (এপিপি) পদ পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নয়ন মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ভূইয়া বলেন, নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বারের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বার সদস্যপদ বাতিল হলে এপিপি পদও থাকবে না।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, প্রবাসী লুৎফর রহমানের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
এমএস/