দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্যবসায়ী ফারুক শেখকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাঁর আপন ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন নিহতের দোকানের কর্মচারী। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সামসুল হক।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা বাজারসংলগ্ন হাউলিকেউটিল গ্রামের নিজ বাড়িতে ফারুক শেখ (৪৬) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি স্থানীয় খালেক শেখের ছেলে। খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ফরিদপুর থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ঘটনার পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ শনিবার রাতেই ফারুকের ভাই বারেক শেখসহ তাঁর দোকানের দুই কর্মচারীকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বারেক শেখ (৪০), গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া হোসেন মোল্লাপাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) এবং একই গ্রামের বাবু শেখের ছেলে রুবেল শেখ (৩০)। শনিবার দিবাগত রাতে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে শনিবার রাতে নিহত ফারুকের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে গোয়ালন্দ থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং ফারুকের জীবনযাপন ও মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন বারেক। কয়েক মাস আগে তিনি সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে দুটি ধারালো দা কিনেছিলেন। শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে বারেক তাঁর দুই কর্মচারীকে নিয়ে ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ সময় তাঁদের সাময়িক খরচের জন্য ১ হাজার ৭০০ টাকা দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টার দিকে বারেকের দুই কর্মচারী ফারুকের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বারেক তাঁদের ধারালো অস্ত্র দেন এবং নিজে বাইরে পাহারায় থাকেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে ঘুমন্ত ফারুকের ওপর হামলা চালিয়ে গলা কেটে ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত শৌচাগারের কাছে ময়লার স্তূপে রেখে আলম ও রুবেল সেখান থেকে চলে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুল হক বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/