দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর মহিপুরে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ পরিদর্শনে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে ট্রলারে দুপুরের খাবার খেয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি। এ সময় আলীপুর-মহিপুরের অন্যতম প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রবেশপথ খাপড়াভাঙা নদীর নাব্যতা সংকট নিরসনে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রে থাকা জেলেদের নিরাপত্তার জন্য এলাকায় একটি বাতিঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
রোববার (২৩ আগস্ট) পটুয়াখালীর মহিপুরে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ পরিদর্শন ও জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙা নদী ও জেলেদের মাছ ধরার বিভিন্ন ট্রলার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ট্রলারে থাকা জেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান।
ট্রলারে জেলেদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এতে জেলেদের জীবনযাপন এবং নৌযান চলাচলের বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে জানার সুযোগ হয় তাঁর।
মতবিনিময় সভায় ট্রলিং ট্রলারের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ট্রলিং ট্রলারের বিষয়টি নিয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়া উচিত। দিনশেষে অভিযোগের তীর রাজনৈতিক দলের দিকেই আসে। ট্রলিং ট্রলার বন্ধ না হলে দেশের ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি, নেতৃত্বের ক্ষতি, সর্বোপরি ভোটের ক্ষতি।
তিনি আরও বলেন, সামনে বেশ কয়েকটি নির্বাচন রয়েছে। মানুষের কাছে ভোট চাইতে হবে। জেলেদের ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে মানুষের কাছে যাওয়ার পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। তাই মানুষের অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের অনুভূতিগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। আশা করি, সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবি খাপড়াভাঙা নদীর নাব্যতা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলেদের সুবিধার্থে খাপড়াভাঙা নদীতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার সময় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বাতিঘর নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে নৌযান শুমারি-২০২৬ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে নৌযান ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হবে এবং নৌখাতের উন্নয়ন, জেলেদের নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী। এ সময় পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর তারেক, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙা নদী পরিদর্শন করেন। এ সময় নদীর নাব্যতা, জেলেদের ট্রলার চলাচল ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এমএস/