দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘আমি কোনো পেশাদার চোর নই। ভুল করে চুরি করে ফেলেছি। কাজটি করে আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে এমন হীন কর্মকাণ্ডে জড়াব না, অঙ্গীকার করছি।’এসব কথা লিখে চুরি করা গ্যাস সিলিন্ডার ফেরত দিয়ে গেছেন এক চোর। শুধু তাই নয়, চুরির ঘটনায় এলাকায় যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রকৃত মালিকের কাছে জিনিসটি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি।
ব্যতিক্রমী এ ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকায়। চোরের লেখা ওই চিরকুটটি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে উপজেলার চরফরাদী এলাকার চরফরাদী মাদ্রাসা মোড়ের কামাল মিয়ার চায়ের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় দোকান থেকে একটি বড় গ্যাস সিলিন্ডারসহ কয়েকটি জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের কাছে বিচারপ্রার্থী হন দোকানি কামাল মিয়া। চুরির ঘটনা নিয়ে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে সন্দেহের বশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে নানা কথা ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
এরই মধ্যে এক রাতে চোরের রেখে যাওয়া একটি চিরকুটসহ চুরি যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায় চরফরাদী মাদরাসায়। পরে মাদরাসার একজন শিক্ষক বিষয়টি চা দোকানি কামাল মিয়াকে জানান।
চিরকুটটি দেখে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির অনুশোচনার বিষয়টি সামনে আসে।
চিরকুটে লেখা হয়, ‘এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সর্বপ্রথম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কোনো পেশাদার চোর নই। কিন্তু ভুল করে চুরি করে ফেলছি। কাজটি করে আমি অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এমন হীন কর্মকাণ্ডে জড়াব না, অঙ্গীকার করছি।’
চোর আরও লিখেছেন, ‘এই চুরির বিষয় নিয়ে এলাকার শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন লোককে দোষারোপ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাবনা দেখে জিনিসটি ফেরত দিলাম। দয়া করে জিনিসটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন।’
চিরকুটে গ্যাস সিলিন্ডারটি কীভাবে ফেরত দেওয়া হলো, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তিনি লিখেছেন, ‘জিনিসটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক ভেবেচিন্তে দেখলাম, প্রকৃত মালিককে কোন কোন উপায়ে ফেরত দেওয়া যায়। অন্য কোনো উপায়ান্তর না দেখে মাদরাসায় রেখে গেলাম। তাছাড়া বিশ্বস্ত কোনো লোক বা উপায় পেলাম না। দয়া করে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন।’
চিরকুটের শেষ দিকে তিনি স্পষ্ট করে লিখেছেন, ‘জিনিসটি ঠাকুরবাড়ির চা দোকানদার কামালের।’ এরপর অনুরোধ করেছেন, ‘দয়া করে কাগজটি পেলে দেখে ছিঁড়ে ফেলবেন। ক্ষমাপ্রার্থী।’
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চুরির ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চুরি করা মালামাল ফেরত দিয়ে চোরের এমন অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
দোকানি কামাল মিয়া বলেন, চুরি যাওয়ার পর তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানিয়েছেন এবং মালামাল উদ্ধারের আশা করেছিলেন। পরে মাদরাসায় গ্যাস সিলিন্ডার ও চিরকুট পাওয়ার খবর পান। সিলিন্ডারটি ফেরত পাওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, চুরি অবশ্যই অপরাধ। তবে ভুল স্বীকার করে চুরি করা জিনিস ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি অন্যরকম। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তি আর কোনো অপরাধে জড়াবেন না এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
/অ