দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের বাড়ির উঠান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আফরোজা ওই গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। সেখানে পারিবারিক কলহের জেরে আফরোজাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এরপর ফোনটি কেটে যায়।
পরে আফরোজার স্বামী দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে টাকা প্রয়োজন। টাকা পাঠাতে দেরি হলে তিনি জানান, আফরোজা মারা গেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার মরদেহ নিথক গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে মরদেহটি বাড়ির উঠানে নামিয়ে রেখেই স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চলে যান। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে স্বজনরা আফরোজাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেছেন।
নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, ‘গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তার স্বামী কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। পুরো শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় লাশ এনে উঠানে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে গেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের একটি কাগজ পাওয়া গেছে। সেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, নিহতের স্বজনরা মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই