দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নির্জন মাঠের সড়কের পাশে খড়ের নিচে পড়ে ছিল অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ। পাশে ঘোরাফেরা করছিল শিয়াল। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা স্যান্ডেল, হাতঘড়ি ও পরনের পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন, এটি নিখোঁজ রাজা হোসেনের (২৫) মরদেহ।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার যুবককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের মধ্যে রাজা হোসেনের বন্ধু রিফাছ হোসেন (২৬) হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। পরে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকায় ইট বিছানো সড়কের পাশ থেকে রাজা হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ সকালে মাঠে যাওয়ার সময় সড়কের পাশে কয়েকটি শিয়ালকে একটি বস্তু ঘিরে টানাটানি করতে দেখেন। কাছে গেলে শিয়ালগুলো পালিয়ে যায়। পরে খড় ও ঘাসের নিচে এক যুবকের মরদেহ দেখতে পান তিনি। মরদেহের বিভিন্ন অংশ শিয়ালে ক্ষতবিক্ষত করেছিল।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধস্থল পরিদর্শন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশ জানায়, রাজা হোসেন সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যান্ডেল, হাতঘড়ি ও পরনের পোশাক দেখে মরদেহটি রাজা হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। রাজা পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে। রিফাছ একই গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে।
পুলিশের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন চার যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে রিফাছকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের দাবি, রিফাছের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজা হোসেনের কাছ থেকেই অনলাইন জুয়া খেলা শেখেন। পরে নিজেও এতে জড়িয়ে বড় অঙ্কের টাকা হারান। আর্থিক সংকট কাটাতে বন্ধুকে অপহরণ করে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন রিফাছ।
পুলিশ আরও জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাজাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। একপর্যায়ে জাল বা নেটজাতীয় বস্তু দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাজাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর রাজার মুঠোফোন ব্যবহার করে তাঁর পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়।
পরে মরদেহটি টেনে ঘটনাস্থলের পাশে নিয়ে খড় ও ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। শিয়ালের টানাটানিতে মরদেহের কিছু অংশ খড়ের বাইরে বেরিয়ে এলে স্থানীয় কৃষকের নজরে পড়ে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমাম আলী বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় রিফাছ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, মরদেহটি দুই দিনের পুরোনো হওয়ায় পচন ধরেছে। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে রিফাছ আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। সেই টাকা জোগাড় করতে তিনি বন্ধু রাজা হোসেনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন। একপর্যায়ে রাজাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিফাছের দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই