দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদরের বিরোধের জেরে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর তালা খুলেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় কলেজের অফিস কক্ষের দুটি ও একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন অধ্যক্ষ পদ দাবি করা আসাদুজ্জামান টুলু।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর তৎকালীন বিএনপি নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাই কামরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘদিনের মামলা ও বিরোধের কারণে কলেজটির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তখন তাঁর বড় ভাই কামরুজ্জামান স্নাতক সম্পন্ন না করায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। পরে মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে তিনি অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় কামরুজ্জামান কারাদণ্ড ও জরিমানা ভোগ করেছেন বলেও দাবি করেন টুলু।
টুলু বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর স্থানীয়দের অনুরোধে কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন তিনি।
কলেজের জমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, তাঁর দাদা আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ এবং দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই স্থানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও চলছে। সম্প্রতি ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন বলে জানতে পেরে কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলেজের সাবেক ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার বলেন, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কলেজটিতে শিক্ষকতা করেছেন। তখন আসাদুজ্জামান টুলুই অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। বড় ভাই কামরুজ্জামানের করা মামলার বিপরীতে দুই দফা আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তবে কামরুজ্জামান বলেন, কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজে তালা দিয়েছিলেন। আদালতের রায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম বিপ্লব বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে কলেজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর বৃহস্পতিবার এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কলেজের অবকাঠামো, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা চলছিল। একটি পক্ষ আদালতের রায় পেয়েছে দাবি করে তা বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা রয়েছে।
ইউএনও বলেন, আদালতের রায়ে পরাজিত পক্ষ ওই বৈঠকে উপস্থিত না হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যে আই