দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খেলার মাঠে এখন আর খেলোয়াড়দের ছোটাছুটি নেই। নেই ফুটবল-ক্রিকেটের আয়োজনও। সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সেই মাঠেই এবার কচুর চারা লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। মাঠ সংস্কার ও খেলাধুলা চালুর দাবিতে বারবার আন্দোলন এবং প্রশাসনের আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় শনিবার বিকেলে বাণিজ্য ভবনের মাঠে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পর কলেজে আর কোনো খেলাধুলার আয়োজন হয়নি। অথচ প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলার ফি বাবদ বছরে ৯০ টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী থাকলেও সেই অর্থের বিপরীতে খেলাধুলার সুযোগ মিলছে না।
শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ সংস্কার, খেলাধুলা চালু, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছেন। ২০২৫ সালে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসন মাঠ সংস্কারের আশ্বাস দেয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি।
চলতি বছরের মে মাসে ফি-এর বিনিময়ে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা, আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়। এরপর অধ্যক্ষের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কমিটির একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত তার দৃশ্যমান কোনো ফলাফল নেই। আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য কমিটি করা হলেও সেটিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এ অবস্থায় মাঠে কচুর চারা লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, আজকের কর্মসূচি আমাদের প্রতীকী আন্দোলন। এর মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নীরব ভূমিকার বিরুদ্ধেই প্রতীকীভাবে কচুর চারা লাগানো হয়েছে।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবির সিকদার বলেন, ২০২৩ সালের পর কলেজে আর কোনো খেলার আয়োজন করা হয়নি। অথচ প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ৯০ টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এত টাকা নেওয়ার পরও খেলাধুলা বন্ধ কেন। দ্রুত মাঠ ভরাট ও সংস্কার করে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
তবে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য, মাঠে খেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় মাঠটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য অনেক কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আগে মাঠের চারপাশে রাস্তা ছিল না। এখন রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টির পানি মাঠে জমে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পানি কমলে খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
কেএম